সংবাদ সংস্থা, ২৮ ডিসেম্বর :- একসময় টেলিভিশন ছিল স্ট্যাটাস সিম্বল – শহর থেকে গ্রাম, বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু ডিজিটাল যুগে সেই চেনা ছবিটাই বদলে যাচ্ছে। প্রথাগত পেইড – টিভি চ্যানেলের দর্শক কমছে, জায়গা দখল করছে স্মার্ট টিভি, ওটিটি ও ডিডি ফ্রি ডিশের মতো ডিজিটাল মাধ্যম।
দর্শক কোথায় যাচ্ছে ?
চলতি বছরের মার্চে দেশে টিভি দর্শক ছিল ৭০.৫ কোটি, সেপ্টেম্বরেই তা নেমে এসেছে ৬৮.৯ কোটিতে। উল্টোদিকে ‘ডিজিটাল-অনলি’ দর্শক ৩১.৩ কোটি – ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের ২৬%। গত এক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ৩০%। চমকপ্রদ তথ্য – এই ডিজিটাল দর্শকের ৪ জনে ৩ জনই গ্রামীণ বাসিন্দা।
পেইড-টিভিতে বড় ধাক্কা :-
২০১৬ সালে যেখানে পেইড – টিভি গ্রাহক ছিল ১৫.১ কোটি বাড়ি, ২০২৪-এ তা কমে ১১.১ কোটিতে। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা ওটিটিতে যাচ্ছেন, মধ্যবিত্তরা খরচ বাঁচাতে ঝুঁকছেন ডিডি ফ্রি ডিশে।
বিজ্ঞাপন ও কর্মসংস্থানের চিত্র :-
বিজ্ঞাপনের বাজারে টিভিকে টপকে গেছে ডিজিটাল। নিখুঁত ডেটা ট্র্যাকিংয়ের সুবিধায় ব্র্যান্ডগুলির পছন্দ এখন অনলাইন। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও – ২০১৮ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে ক্যাবল টিভি সেক্টরে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৫.৭ লক্ষ মানুষ; অলাভজনক চ্যানেল বন্ধও হচ্ছে।
তবে কি টিভির শেষ ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শেষ নয় -রূপান্তর। প্রথাগত চ্যানেলের জনপ্রিয়তা কমলেও বড়পর্দার চাহিদা বাড়ছে। স্মার্ট টিভি ও ফ্রি টিভির দর্শক প্রতিবছর ১–১.৫% হারে বাড়ছে। ইংরেজি বা হিন্দির তুলনায় আঞ্চলিক ভাষার চ্যানেলগুলি দর্শক ধরে রাখতে বেশি সফল – এটাই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।
