সংবাদ সংস্থা, ২৬ ডিসেম্বর :- রিঙ্কু সিং যেন ক্রমশ ভারতীয় ক্রিকেটের এক অনিবার্য নাম হয়ে উঠছেন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে তিনি যে কতটা ভয়ংকর, তা ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন উত্তরপ্রদেশের অধিনায়ক তথা কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই তারকা। আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫ – ২৬-এ চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে তাঁর র্যাপিড সেঞ্চুরি কার্যত ‘রাইভাল’দের জন্য রণহুঙ্কার হয়ে উঠল।
দুরন্ত উত্তরপ্রদেশ, একতরফা আধিপত্য :-
২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাজকোটে বিজয় হাজারে ট্রফির এলিট গ্রুপ ‘বি’-র ম্যাচে মুখোমুখি হয় উত্তরপ্রদেশ ও চণ্ডীগড়। সামসোরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মনন ভোহরার নেতৃত্বাধীন চণ্ডীগড় – যা যে বড় ভুল হতে চলেছে, তা খুব দ্রুতই বোঝা যায়। অধিনায়ক রিঙ্কু সিংয়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভর করে উত্তরপ্রদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে বিশাল ৩৬৭ রান। আরিয়ান জুয়াল দুর্দান্ত ফর্মে ১১৮ বলে ১৩৪ রান করেন (৭টি চার ও ৮টি ছয়)। ধ্রুব জুরেলও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, ৫৭ বলে ৬৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চণ্ডীগড় পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। উত্তরপ্রদেশের বোলারদের দাপটে তারা মাত্র ১৪০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। জিশান আনসারির স্পিনে জর্জরিত হয়ে চার উইকেট হারায় চণ্ডীগড়, বিপরাজ নিগম নেন ২টি উইকেট। একটি করে উইকেট নেন কার্তিক ত্যাগী, বৈভব চৌধুরী ও প্রশান্ত বীর। ফলে ২২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় উত্তরপ্রদেশ।
রিঙ্কুর র্যাপিড সেঞ্চুরি, একাই বদলে দিলেন ম্যাচের রং :-
এই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন রিঙ্কু সিং। মাত্র ৫৬ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ১০৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছয়, স্ট্রাইক রেট ১৭৬.৬৭। এটি রিঙ্কুর দ্বিতীয় লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরি এবং একই সঙ্গে এই ফরম্যাটে তাঁর কেরিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ইনিংসের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন রিঙ্কু। অভিষেক গোস্বামী দ্রুত আউট হয়ে গেলেও, আরিয়ান জুয়াল ও ধ্রুব জুরেল ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ৯৬ রানের জুটি ম্যাচের মঞ্চ তৈরি করে দেয়। এরপর সমীর রিজভির সঙ্গে ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। রিজভি আউট হওয়ার পরই রিঙ্কু আক্রমণের গিয়ার বদলে দেন এবং দ্রুত রানের গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করেন।
গেমচেঞ্জার রিঙ্কু সিং :-
পরবর্তীতে প্রশান্ত বীরের সঙ্গে জুটি বেঁধে উত্তরপ্রদেশের ইনিংসকে আরও শক্ত ভিত দেন রিঙ্কু। ম্যাচের গতি বোঝা, চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় খেলা এবং প্রয়োজনে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা – সবকিছুই এদিন নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।
এই ইনিংস শুধু উত্তরপ্রদেশকে বিশাল জয়ের পথে নিয়ে যায়নি, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য রিঙ্কু সিং যে পুরোপুরি প্রস্তুত, সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ এনে দিলেন এই নাইট যোদ্ধা। ধারাবাহিক এমন পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই রিঙ্কু সিং ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং তারকাদের তালিকায় নিজের জায়গা আরও পোক্ত করে।
