ভারত সফর শেষে দুঃসংবাদ মেসির পরিবারে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত বোন মারিয়া সোল, স্থগিত বিয়ে

সংবাদ সংস্থা, ২৪ ডিসেম্বর :- ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরতেই দুঃসংবাদ পেলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। মায়ামির রাস্তায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তাঁর বোন মারিয়া সোল মেসি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার জেরে তাঁর নতুন বছরের বিয়ে আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ামিতে নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন মারিয়া সোল। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর গাড়ি একটি দেওয়ালে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় তাঁর গোড়ালি ও কব্জির হাড় ভেঙেছে। পাশাপাশি মেরুদণ্ডেও গুরুতর চোট লেগেছে বলে খবর। শরীরের কিছু অংশ দগ্ধও হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। একাংশের দাবি, দুর্ঘটনার ঠিক আগে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান মারিয়া সোল। আবার অন্য কয়েকটি সূত্রের মতে, একটি মোটরবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে মারিয়া সোলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। তাঁর হবু স্বামী জুলিয়ান আরেলানো ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচ। তবে বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেসি পরিবার।

এদিকে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির সাম্প্রতিক সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সোমবার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।

শুনানিতে রাজ্য সরকার, অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত এবং মামলাকারীদের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। আয়োজকের আইনজীবী বিশ্বজিৎ মান্না দাবি করেন, মেসিকে কলকাতায় আনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানের বিশৃঙ্খলার জন্য আয়োজক নয়, দায়ী পুলিশ প্রশাসন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন, যা নজিরবিহীন। পাশাপাশি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে ডিজি ও সিপিকে শোকজ এবং এক ডিসিপিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজ্যের দাবি, আয়োজকরা পুলিশের কাছে সঠিক তথ্য দেয়নি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। টিকিটের টাকা ফেরত প্রসঙ্গে রাজ্য স্পষ্ট জানায়, টিকিট বিক্রির সঙ্গে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না।

উল্লেখ্য, কলকাতায় মেসির সফরের সময় মাত্র ২০ মিনিট যুবভারতীতে অবস্থান করেন তিনি। তাঁকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন, শুরু হয় ভাঙচুর। এই ঘটনাই পরবর্তীতে আইনি জটিলতার রূপ নেয়।