সংবাদ সংস্থা, ১০ ডিসেম্বর :- প্রসঙ্গত, বাংলার পেসার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি সম্পূর্ণ ফিট এবং জাতীয় দলে ফিরতে প্রস্তুত। তবুও তাঁর জাতীয় দলে ফেরা এখনও অনিশ্চিত। কী করছেন নির্বাচকরা? প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
জাতীয় দল থেকে বাদ, তবুও মুস্তাক আলি ট্রফিতে শামির আগুন-ঝরা পারফর্ম্যান্স! কেন ব্রাত্য তারকা পেসার? প্রশ্ন তুললেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আবারও মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) হয়েই সরব হলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য – ফিটনেস বা দক্ষতা, কোনও কারণ দর্শিয়েই সামিকে ভারতীয় দলে না রাখার যুক্তি নেই। কেন জাতীয় দল থেকে এখনও দূরে মহম্মদ শামি- এই প্রশ্ন তুলে, প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি তীর সোজা নির্বাচক অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) দিকে। ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়লেও, মহম্মদ শামি সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে (SMAT) লাগাতার নজর কাড়ছেন। ভারতের এই তারকা পেসার বাংলা দলের হয়ে পুদুচেরির বিরুদ্ধে ৩/৩৪ উইকেট তুলে নেন। এরপর হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে তিনি ৪/৩৪ উইকেট নিয়ে হরিয়ানার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন, যা ছিল তাঁর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় চার উইকেট শিকার। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ৪/১৩ সহ শেষ তিনটি ম্যাচে শামির উইকেটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১।
অতীতে রঞ্জি ট্রফি (Ranji Trophy) এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতেও (Vijay Hazare Trophy) উইকেট শিকারের মাধ্যমে শামি তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তবুও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) নির্বাচক প্যানেল তাঁকে ক্রমাগত উপেক্ষা করে চলায় প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
সৌরভের প্রশ্ন অজিত আগরকরকে :-
এক বিবৃতিতে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরকে উদ্দেশ্য করে সৌরভ প্রশ্ন করেন, কেন শামি এখনও দলের বাইরে? সাম্প্রতিক সময়ে আগরকর এবং শামির মধ্যে কোনও যোগাযোগ নেই-এই ধরণের কথা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শামি, নির্বাচকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন যে, ক্রিকেটর ও নির্বাচকদের মধ্যে কোনও সুসম্পর্কই নেই।
একটি অনুষ্ঠানে সৌরভ সরাসরি এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি এমনও আশা প্রকাশ করেন যে, আগরকর ও শামি- দুজনের এখন কথাবার্তা হয়, সম্পর্কও উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কেন শামি এত দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দল থেকে দূরে রয়েছেন, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে নির্বাচকরা নজর রাখছেন। আমি আশা করছি, মহাম্মদ শামি এবং নির্বাচকদের মধ্যে যোগাযোগও রয়েছে। কিন্তু যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তবে ফিটনেস এবং দক্ষতার দিক থেকে এই সেই মহাম্মদ শামি, যাকে আমরা চিনি। তাই আমার সত্যি কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না যে কেন সে ভারতের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবে না, কারণ তার দক্ষতা ও পারফরম্যান্স নিয়ে কোনও কথা হবে না।’
ইনজুরি এবং অনিশ্চয়তা :-
২০২৩ বিশ্বকাপের পরে গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার হওয়ার পর থেকেই শামির ভারত কেরিয়ার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেরে ওঠার পরেও একের পর এক ইনজুরিতে তিনি পিছিয়ে পড়েন এবং দলে জায়গা করে নিতে সংগ্রাম করতে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির জন্য তিনি প্রাথমিক আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলে ঢুকতে পারেননি।
অবশেষে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় শামি ভারতীয় দলে ফেরেন এবং পাঁচটি ম্যাচে নয় উইকেট নেন। কিন্তু সাত মাস পরেও সেটাই ভারতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ ম্যাচ হয়ে আছে।
ভবিষ্যৎ কী? ৩৫ বছর বয়সে শামির সামনে হয়ত, খুব বেশি সময় হাতে নেই নিজেকে প্রমাণ করার। তবে জসপ্রিত বুমরাহকে কম খেলানো হচ্ছে এবং মহাম্মদ সিরাজের আরও খেলার প্রয়োজন রয়েছে, এই পরিস্থিতিতে শামি হয়ত দলের জন্য সহজ পরিবর্তনের (Smooth Transition) জন্য একটি শেষ সুযোগ পেতে পারেন।
শামি এখনও আগুন ঝরাতে পারেন এবং বলকে দিয়ে কথা বলাতে পারেন। যদিও ফরম্যাটের দীর্ঘ সময়কালের কারণে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রত্যাবর্তন মুখের কথা নয়, তবুও ভারতের ওয়ানডে (ODI) পরিকল্পনার মধ্যে তাঁকে যুক্ত করা এবং শুরুতেই তাঁকে কিছুটা খেলার সুযোগ দেওয়াটা হয়তো খারাপ হবে না।
বাংলার কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের বক্তব্য :-
ইতিমধ্যে বাংলার কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টও সামির হয়ে সাফাই দিয়েছেন, দাবি করেছেন ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। অন্যদিকে, বোর্ড নতুন প্রজন্মের পেসারদের তুলে আনছে টেস্ট দলে, ফলে সামির সুযোগ কমে আসছে বলেই ধারণা অনেকের।
এই আবহে সৌরভের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমান সিএবি প্রেসিডেন্টের (CAB President) বক্তব্যে স্পষ্ট – তিনি চান, অভিজ্ঞ পেসারকে আবার জাতীয় দলে ফেরানো হোক। ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের (WTC Final 2023) পর থেকে আর আন্তর্জাতিক টেস্টে দেখা যায়নি সামিকে। তবে রঞ্জিতে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্মই বলছে – ‘ফিটনেস’ এখন আর কোনও অজুহাত নয়।
