৮ ডিসেম্বর-এর আগেই মহা-বিপর্যয়? ISL নিয়ে জরুরি বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! খেলোয়াড়দের বেতন নিয়ে সরকারের মাস্টারস্ট্রোক!

সংবাদ সংস্থা,২২ নভেম্বর: ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) ২০২৫-২৬ মরসুমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও, কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপে আশার আলো দেখা গেছে। সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল জানান, সরকার আইএসএল চালু রাখতে বদ্ধপরিকর এবং খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেবে, যাতে ফিফার নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক সম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল লিগ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) ২০২৫-২৬-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর অনিশ্চয়তা অবশেষে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে আশার আলো দেখল। টেন্ডার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) যে চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে, সেই জট কাটাতে স্বয়ং কেন্দ্র সরকার এবার আইএসএল আয়োজনের দায়ভার কাঁধে তুলে নিচ্ছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং জয়মাল্য বাগচির বিশেষ বেঞ্চে তিনি জানান, দেশের সর্বোচ্চ ফুটবল লিগ যাতে কোনওভাবেই বন্ধ না হয়, তার উপায় খুঁজে বের করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ বিষয়ে দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে আদালতের কাছে। “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘পুরোপুরি অবগত’ এবং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন— আইএসএল অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে।”

মেহতা বেঞ্চকে আশ্বাস দেন যে, সরকার খেলোয়াড় এবং ক্লাবগুলিকে আর্থিক দিক থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্পন্সর বা ক্লাব মালিকের অভাবে দেশের ফুটবলাররা যাতে কোনও অসুবিধায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করা হবে।

আদালতের কঠোর বার্তা
যদিও সরকারের এই হস্তক্ষেপকে বেঞ্চ স্বাগত জানিয়েছে, কিন্তু বিচারপতিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেন। তাঁরা বলেন, “আমরা এই ধারণা দিতে চাই না যে সরকার আবার হস্তক্ষেপ করছে। এটি কেবল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য।” সলিসিটর জেনারেলও তাতে সহমত হয়ে জানান, সরকার এই বিষয়টি মাথায় রাখবে যে সমস্ত পদক্ষেপ যেন ফিফা (FIFA) নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মুখ পুড়তে না হয়।

বিচারপতি রাওয়ের সুপারিশেই ভরসা
প্রসঙ্গত, এআইএফএফ-এর সঙ্গে রিলায়েন্স-এর সহযোগী সংস্থা FSDL-এর বর্তমান বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব আগামী ৮ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, বিচারপতি এলএন রাও কর্তৃক গত সপ্তাহে আদালতে জমা দেওয়া সুপারিশগুলিকে আদালত “খুব ভালো নির্দেশক নীতি” হিসেবে দেখছে। অ্যামিকাস কিউরি গোপাল শঙ্করনারায়ণ কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছেন, অবিলম্বে ক্লাবগুলির পাশাপাশি প্রি-বিড মিটিংয়ে অংশ নেওয়া চারটি সম্ভাব্য দরদাতার সাথে আলোচনা শুরু করতে।

১২টি আইএসএল ক্লাব দ্রুত সমাধানের জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিল। অন্যদিকে, ফুটবল মরসুম নিয়ে আই-লিগ ক্লাবগুলির উদ্বেগও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন। মামলাটি স্থগিত করে আদালত সলিসিটর জেনারেলকে নির্দেশ দেয়, দুই সপ্তাহ পরে সরকারকে অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে অবগত করতে হবে। ফুটবল প্রশাসনের এই ঐতিহাসিক সংকটে আপাতত কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশের ফুটবল মহল।