সংবাদ সংস্থা, ২০ নভেম্বর :- নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে ‘ফিপসাক্সলা’ নামে এক অধভূত পাথরের সন্ধান পেয়েছে, যার গঠন ও উপাদান আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মেলে না। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি একটি লোহা-নিকেল সমৃদ্ধ উল্কাপিণ্ড, যা মহাকাশ থেকে এসে মঙ্গলের বুকে আছড়ে পড়েছিল।
মঙ্গল গ্রহে আবারও রহস্যের খোঁজ। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার সম্প্রতি মঙ্গলের বুকে এমন এক পাথরের সন্ধান পেয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাথরটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিপসাক্সলা’। এর গঠন, রং ও উপাদান আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই পাথর কি আদৌ মঙ্গলের নিজস্ব, নাকি বহিরাগত? নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার জেজেরো ক্রেটারের কাছে ভারনোডেন নামক অঞ্চলে এই পাথরটি খুঁজে পায়। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, রোভার তার বাদিকের ‘Mastcam-Z’ ক্যামেরা দিয়ে এই পাথরের ছবি তোলে। এরপরই বিজ্ঞানীদের মধ্যে শুরু হয় উত্তেজনা। রোভার তার সুপ্যার ক্যাম লেজার ও স্পেকট্রোমিটার ব্যবহার করে পাথরটির গঠন বিশ্লেষণ করে। দেখা যায়, এতে উচ্চমাত্রায় লোহা ও নিকেল রয়েছে, যা মঙ্গলের নিজস্ব ভূত্বরেই খুবই বিরল। এই উপাদানগুলির উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, এটি সম্ভবত একটি উল্কাপিণ্ড, যা বহু বছর আগে মহাকাশ থেকে এসে মঙ্গলের মাটিতে আছড়ে পড়েছিল।
‘ফিপসাক্সলা’ দেখতে অনেকটা ছোট ডেস্কের মতো, এবং এটি ঘিরে রয়েছে সমতল ও ভাঙাচোরা বেসাল্ট পাথর। এর আকার ও গঠন আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘এটি যেন এক অচেনা অতিথি – একেবারে ভিনগ্রহের মতো।’
নাসার কিউরিওসিটি রোভার ২০১৪ সালে গেল ক্রেটারে ‘লেবানন’ নামক এক মিটার চওড়া উল্কাপিণ্ড খুঁজে পেয়েছিল। ২০২৩ সালে ‘কাকাও’ নামেও আরেকটি উল্কাপিণ্ড পাওয়া যায়। তবে জেজেরো ক্রেটারে এতদিন কোনও লোহা – নিকেল উল্কাপিণ্ড পাওয়া যায়নি, যা এই আবিষ্কারকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এই পাথর যদি সত্যিই উল্কাপিণ্ড হয়, তবে তা মঙ্গলের অতীত ও মহাকাশের ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে । এটি বোঝাতে পারে, মঙ্গলের বুকে অতীতে বহু উল্কাপিণ্ড এসে পড়েছে, এবং তাদের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে আমরা সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পেতে পারি। নাসা জানিয়েছে, ‘এই পাথরটি জেজেরো ক্রেটারের বাইরের অংশে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে অতীতে প্রভাবজনিত ভূ-প্রক্রিয়ায় শিলার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এটি উল্কাপিণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
মঙ্গলের বুকে এই ‘অচেনা অতিথি’ যেন এক নতুন রহস্যের দরজা খুলে দিল। ভবিষ্যতে এই পাথর ঘিরে আরও কী কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে বিজ্ঞানীমহল।
