দিদা দত্তক নিয়েছিলেন তাঁকে, কোন পথে ভারতের রত্নগর্ভা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন রতন টাটা?

সংবাদ সংস্থা, ১০ অক্টোবর :- আজ ভারতের শিল্পজগতের এক মহীরূহ রতন টাটার প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী। টাটা পরিবারের এই গর্বিত উত্তরসূরি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর, বোম্বাইয়ে।

আজ ভারতের শিল্পজগতের এক মহীরূহ রতন টাটার প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী। টাটা পরিবারের এই গর্বিত উত্তরসূরি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর, বোম্বাইয়ে। টাটা পরিবারের সন্তান হলেও রতন টাটার জীবনপথ ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। ১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর বোম্বেতে জন্ম নেওয়া রতন টাটার বাবা নাভাল টাটা তখনও সরাসরি টাটা উত্তরাধিকারী ছিলেন না। কঠিন শৈশব কাটিয়ে নাভালকে ১৩ বছর বয়সে নওয়াজবাই টাটা দত্তক নেন, যিনি ছিলেন স্যার রতনজী টাটার স্ত্রী। তাঁর বাবা-মা, নাভাল টাটা ও সুনি কমিশারিয়াত, যখন তিনি মাত্র ১০ বছরের, তখন আলাদা হয়ে যান। পরে তাঁর দিদা নওয়াজবাই টাটা তাঁকে দত্তক নেন। ভাই নোয়েল টাটার সঙ্গেই বড় হন রতন।

তিনি পড়াশোনা করেন শিমলার বিশপ কটন স্কুল, বুম্বাইয়ের ক্যাথেড্রাল অ্যান্ড জন কনন স্কুল, এবং পরে নিউ ইয়র্কের রিভারডেল কান্ট্রি স্কুলে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য ও প্রকৌশলে ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাডভান্সড ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। ১৯৬২ সালে রতন টাটা,v টাটা গ্রুপে কাজ শুরু করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে টাটা গ্রুপ পায় এক নতুন দিশা। তিনি টাটা মোটরসের মাধ্যমে তৈরি করেন “টাটা ন্যানো”, সাধারণ মানুষের নাগালের গাড়ি। তাঁর সময়েই টাটা স্টিল অধিগ্রহণ করে করাস গ্রুপ, টাটা মোটরস কিনে নেয় ব্রিটিশ ব্র্যান্ড জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভার, যা ভারতকে আন্তর্জাতিক শিল্প মানচিত্রে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।

তাঁর নেতৃত্বে টাটার ভাবমূর্তি শুধু শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না, সামাজিক দায়বোধ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পশু কল্যাণ সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তিনি শুধু সফল ব্যবসায়ীই নন, ছিলেন এক গভীর মানবিক হৃদয়ের মানুষ। অনাথ, অসহায় ও শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তাঁর টাটা ট্রাস্টের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর পশুপ্রেম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য টাটা পরিবারপ্রধান দপ্তরে রাস্তার কুকুরদের জন্য আশ্রয় ও চিকিৎসা সুযোগ রেখেছিলেন। তাঁর সরলতা, বিনয় এবং নৈতিকতার প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাঁকে পরিণত করেছিল এক অনন্য ব্যক্তিত্বে।

২০১২ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিলেও তাঁর নেতৃত্ব ও মানবিকতা আজও অনুপ্রেরণা। রতন টাটা কেবল এক মহান শিল্পপতি নন, ছিলেন এক মানবিক, সৎ ও দূরদর্শী মানুষ। আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে রতন টাটার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তাঁর মূল্যবোধ, সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও আমাদেরকে পথ দেখায় এমনটাই মত প্রকাশ অধিকাংশের।