সংবাদ সংস্থা, ০৭ অক্টোবর :- SIR নিয়ে কেন্দ্রের বড়োসড়ো পদক্ষেপ! কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী জানান, যুক্ত হওয়া বেশিরভাগ নামই নতুন ভোটারদের। আদালত জানায়, জনগণের আস্থা ও প্রক্রিয়া সঠিক রাখার জন্য এই সমস্ত বিবরণ প্রকাশ করতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৯ অক্টোবর। ওই দিন এই সকল তথ্য জানাতে হবে কমিশনকে।
বিহার বিধানসভা (Bihar Assembly Election) ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে সোমবার। এর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ভোটমুখী বিহারে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নির্বাচন কমিশনেরও (Election Commission) একান্ত বিশেষ অধিকার ও একেবারেই তাদের এক্তিয়ারভুক্ত কাজ। এ ব্যাপারে কমিশনকে কোনও নির্দেশ দেওয়া অনধিকার চর্চা করবে না।মঙ্গলবার একথা জানিয়ে দিলো সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য :-
এদিন মামলার শুনানিতে বেঞ্চ কমিশনকে বলে অন্য রাজ্যগুলিতে কবে নাগাদ বিশেষ ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও বিহারে যে ৩.৬৬ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এবং ২১ নাম নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তার বিস্তারিত ডেটা ও একটি ব্যাখ্যা তৈরি করে জমা দিতে। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলে, সব কাজে আমাদের হস্তক্ষেপের দাবি কেন? বিশেষ ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ হল কমিশনের একান্ত নিজস্ব এক্তিয়ারভুক্ত বিশেষ ক্ষমতাবল। এর মাঝে ঢুকে পড়া অনধিকার চর্চা।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে ডিভিশন বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ, নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চায়, অন্য রাজ্যগুলিতে কবে বিশেষ ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের কাজ শুরু হবে? এছাড়া বিহারে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ৩.৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে এবং ২১ লক্ষ ভোটারের নাম সংযোজন হয়েছে। এ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) তথ্য সংগ্রহ করে একটি নোট প্রস্তুত করতেও সুপ্রিম কোর্ট, কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য :-
কংগ্রেস নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আবেদনকারীর তরফে বলেন, কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের নাম জানানো হয়নি। এই ৩.৬৬ লক্ষ নাগরিক জানতেও পারেননি, কেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কাউকে নির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি। অথচ যেখানে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আবেদনের প্রশ্নই উঠছে না, কারণ তাঁরা জানেনই না যে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরেক আবেদনকারী অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের তরফে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, মোট ৪৭ লক্ষ নাম উধাও হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর আমরা দেখেছি যে এই পরিমাণ নাম বাদ গিয়েছে। বিশেষ ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের নামে এই কর্মকাণ্ড গোটা বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে, বলেন ভূষণ। তাঁর দাবি, এর পিছনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরেই জানা গিয়েছিল ৬৫ লক্ষ ভোটার উধাও। অথচ, কমিশন এই তথ্যটি নির্দেশিকা অনুযায়ী আপলোড করেনি।
বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘এমন প্রক্রিয়া হওয়া উচিত, যেখানে জনগণের আস্থা তৈরি হয়।’ কারণ না-জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ যদি কেউ তথ্য দিয়ে আদালতে জানান, তবে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হবে। জানান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মামলাকারীর আইনজীবী প্রশান্ত বলেন, ‘অনেক লোকের নাম আমার কাছে রয়েছে। ১০০ জনের নামের তালিকা পরের শুনানিতে আদালতে জমা দেব।’ আদালত তাঁকে সেই তালিকা জমা দিতে বলে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আবার পরের মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)।
খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? প্রশ্ন বিচারপতির :-
কারণ না – জানিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন উদাহরণ থাকলে আদালতে জানাতে বলেন বিচারপতি। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া ঠিক নয়। অভিযোগ উঠছে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছে। তার পরে আবার নতুন নাম যোগ হয়েছে। এই নতুন কারা? কী ভাবে তাঁদের নাম যোগ হল। প্রথমে বাদ গিয়েছিল তার পরে আবার ঢোকানো হল? স্পষ্ট করে বলুন। খসড়া তালিকা এবং চূড়ান্ত তালিকার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে বলুন।’’ কমিশনের পক্ষের আইনজীবী জানান, অনেক নতুন ভোটারের নাম যোগ হয়েছে।
তথ্যের ভিত্তিতে সওয়াল করুন বিচারপতি :-
আইনজীবীদের তথ্যের ভিত্তিতে সওয়াল করার কথা মনে করিয়ে দেন বিচারপতি। মামলাকারীর আইনজীবী জানান, কাদের নাম বাদ গিয়েছে। ভাগ ভাগ করে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তা শুনে বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কাদের নাম নেই? চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সবাই দেখতে পাচ্ছেন সেখানে কাদের নাম রয়েছে।’’ বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘ধরুন, আমার নাম নেই। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ জানানো হয়নি। এমন উদাহরণ দিন। আদালতে হলফনামা দিন ওই বিষয়ে।
সবমিলিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যে সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থতার নজির গড়লেন খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট তৈরী তে, তাঁর প্রমাণ এবার জনসমক্ষে! নির্বাচন কমিশন এবার সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে!
