সংবাদ সংস্থা, ০৭ অক্টোবর :- আশারাম বাপু,রাম রহিম এবার আরেক ভণ্ড বাবার নষ্টামি কালিমা লেপন দিলো ‘বাবা’ র আচরণের উপর। শুনুন এক ভণ্ড স্বামীজির কাহিনী!
জানা গিয়েছে, পাঁচতারা হোটেলে উঠতেন চৈতন্যনন্দ। এরপর ছাত্রীদের রীতিমতো টার্গেট করে সেই হোটেলে যেতে রাজি করাতেন তাঁর সহযোগীরা। ছাত্রীদের বলা হত, বাবা একটি চমত্কার রুম বুক করেছেন। সেই রুমে তাঁর সঙ্গে রাত কাটাতে হবে। রাজি না হলেই…
ভগবানের বেশে সে আসলে এক শয়তান! কীভাবে স্বঘোষিত ধর্মগুরু চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর অনুগামীরা ছাত্রীদের ডেকে পাঠাতেন? হোটেলে থাকতে বলতেন? হোয়াটস অ্যাপে চ্যাট নয়, এবার প্রকাশ্যে ফোনের কল রেকর্ডিং। জানা গিয়েছে, পাঁচতারা হোটেলে উঠতেন চৈতন্যনন্দ। এরপর ছাত্রীদের রীতিমতো টার্গেট করে সেই হোটেলে যেতে রাজি করাতেন তাঁর সহযোগীরা। ছাত্রীদের বলা হত, বাবা একটি চমত্কার রুম বুক করেছেন। সেই রুমে তাঁর সঙ্গে রাত কাটাতে হবে। রাজি না হলেই হুমকি! বেশিরভাগই গরিব পরিবারের মেয়ে। ভয় দেখানো হতো, হোটেলে বুকিং বাতিল করা হবে এবং তাঁদের নিজেদের খরচে হোটেল বুক করতে হবে। এমনকী, কোনও ছাত্রী যদি বলতেন, পিরিডসের জন্য বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, তাহলেও ‘অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিতেন চৈতন্যনন্দের অনুগামীরা।
দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট-রিসার্চ প্রধান ছিলেন চৈতন্যনন্দ সরস্বতী। ১৭ জন মহিলাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুর তিন মহিলা সহযোগীও এখন পুলিশের হেফাজতে। তাঁদেরই অন্যতম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন অ্যাসোসিয়েট ডিন শ্বেতা শর্মা। তাঁর সঙ্গেই এক ছাত্রী ফোনে কথোপকথনের রেকর্ডিং হাতে, প্রকাশিত হয়েছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে।
শ্বেতা :- ‘কাল যখন তোমরা দু’জন অফিস থেকে বেরোবে, আমি তোমাদের হোটেলের নাম পাঠিয়ে দেব। তোমাদেরকে সেখানে যেতে হবে। স্বামীজি এসেছেন। তোমাদেরকে ডিনারের জন্য তাঁর সাথে দেখা করতে হবে। তিনি তোমাদের জন্য একটি রুম বুক করেছেন। তোমরা রাতটা থেকে সেখান থেকে অফিসে যাবে’।
মহিলা কণ্ঠ :- ঠিক আছে, ম্যাডাম।
শ্বেতা :- তো, কাল যখন অফিসের জন্য বেরোবে, জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়ো। অন্য একটি কল রেকর্ডিংয়ে আবার শোনা যাচ্ছে, এক মহিলা শ্বেতাকে পিরিয়ডসের কথা বলছেন। তাঁকে ‘অজুহাত’ না দেওয়ার জন্য বলছেন শ্বেতা। শ্বেতা ‘এটা একটা অজুহাত’! মহিলা কণ্ঠ ‘না, ম্যাডাম, এটা অজুহাত নয়। আমি সত্যিই আমার পিরিয়ডসে আছি’।
শ্বেতা :- ‘এটা অজুহাত। তুমি মিটিংটা এড়াতে চাইছো কারণ তোমার ভয় হচ্ছে স্বামীজি তোমাকে বকবেন এবং তোমার মার্কস কমিয়ে দেবেন। তুমি তোমার নিজের থাকার ব্যবস্থা করতে পারো’।
মহিলা কণ্ঠ :- ‘ম্যাডাম, আমি সত্যিই পিরিয়ডসে আছি। আমরা কেন মিথ্যা বলবো? আমি কী করতে পারি? আমি আমার স্যানিটারি প্যাডের ছবি পাঠিয়ে দেব। আর কী করতে পারি’?
পুলিস সূত্রে খবর, ঘন ঘন নাম ও পোশাক পরিবর্তন করতেন চৈতন্যনন্দ। পার্থ সারথি রুদ্র থেকে ব্র পার্থসারথি। তারপর স্বামী পার্থসারথি, শেষে চৈতন্যনন্দ সরস্বতী। পুরনো কিছু ছবি আবার তাঁকে সাদা পোশাকে দেখা গিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ছবিগুলিতে পোশাকের নাম গেরুয়া। বস্তুত, আর্থিক বেনিয়মের কারণে চৈতন্যনন্দকে রামকৃষ্ণ মিশন থেকেও সরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে বর্তমানে তাঁর আসল চেহারায় মিশনের মহারাজ তথা স্বামীর ছবি। তবে প্রশ্ন হলো কাদের ছত্রছায়ায় থেকে এমনটা নষ্টামি করতেন সেই ভণ্ড স্বামীজি?? সনাতনী দের বিশ্বাস দিনের পর দিন ভঙ্গ করেছেন এসব ভণ্ড বাবা-স্বামী রা! এবার দিল্লি পুলিশ কি নেয় পদক্ষেপ তা হবে লক্ষণীয়
