TCS – এর পর আরও এক টেক জায়ান্ট! এক মাসেই ১১,০০০ চাকরি গেলো

সংবাদ সংস্থা, ০৭ অক্টোবর :- অ্যাকসেনচার (Accenture) গত তিন বছরে ‘ব্যবসা অপটিমাইজেশন’ (Business Optimization) -এর জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের (2 billion dollar) বেশি খরচ করেছে, যার একটি বড় অংশ সেভারেন্স (Severance Pay) বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয়েছে। সংস্থাটি গত তিন মাসে ১১,০০০-এরও (11,000 employee laid off) বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে।

অ্যাকসেনচার (Accenture) গত তিন বছরে ‘ব্যবসা অপটিমাইজেশন’ (Business Optimization) -এর জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের (2 billion dollar) বেশি খরচ করেছে, যার একটি বড় অংশ সেভারেন্স (Severance Pay) বা ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয়েছে। সংস্থাটি গত তিন মাসে ১১,০০০-এরও (11,000 employee laid off) বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। অ্যাকসেনচারের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৫-এর শেষে কোম্পানির বিশ্বব্যাপী কর্মীর সংখ্যা ৭,৭৯,০০০-এ নেমে এসেছে, যা তিন মাস আগে ছিল ৭,৯১,০০০।

শেষ সেভারেন্সে এবং সংশ্লিষ্ট খরচ ৬১৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, এবং এখন আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কোম্পানির ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় করবে। সাম্প্রতিক বিবৃতিতে এই বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে অ্যাকসেঞ্চার ইঙ্গিত দিয়েছে যে এই প্রক্রিয়া সম্ভবত নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চলবে।

মূলত দুটি প্রধান লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি: সেভারেন্স এবং কর্মী সংখ্যা কমানোর মাধ্যমে কর্মীবাহিনীকে সামঞ্জস্য করা, এবং যে অধিগ্রহণগুলি এখন অ্যাকসেঞ্চারের কৌশলগত দিকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলোর বিক্রি করে দেওয়া। সাম্প্রতিক প্রান্তিকে, অ্যাকসেঞ্চার ১১,৪১৯ জন কর্মী কমানোর খবর দিয়েছে।

যদিও অ্যাকসেঞ্চারের কর্মী সংখ্যা কমানোর একাধিক কারণ থাকতে পারে, এআই (Artificial Intelligence) সেগুলোর মধ্যে একটি। কোম্পানির সাথে কর্মরত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজনেস অ্যানালিস্টের মতে, প্রচুর ‘প্রজেক্ট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং অ্যাকসেঞ্চারের মধ্যেই অনেক টকর্মী একটি প্রজেক্ট পাওয়ার জন্য খুঁজছেন।’

ওই বিজনেস অ্যানালিস্ট বলেছেন, ‘আমি দেখেছি যে প্রজেক্ট নেই এমন মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে এবং তারা অফিসে জিজ্ঞেস করে প্রজেক্ট খালি আছে কিনা? মনে হচ্ছে অনেকেই বেঞ্চেও আছেন এবং সেটাই ছাঁটাইয়ের কারণ হতে পারে।’

অ্যাকসেঞ্চারের ওই কর্মী আরও বলেছেন যে কোম্পানি ‘এআই-তে প্রচুর বিনিয়োগ করছে, কিন্তু একই সাথে অনেক লোক বেঞ্চে বসে আছে।’

একই অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর এক তরুণ কর্মী সংস্থার মানব সম্পদ (HR) বিভাগের- তার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ওই কর্মী জোরপূর্বক পদত্যাগের হুমকির মুখেও চাকরি ছাড়তে অস্বীকার করেন। এই পোস্ট ভারতের অন্যতম বৃহৎ এই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে কর্মীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, তিন দিন আগে তাকে একটি মিটিং রুমে ডেকে নিয়ে এইচআর (HR)-এর পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
‘আমাকে মিটিং রুমে ডেকে পদত্যাগ করতে বলার পর তিন দিন কেটে গেছে। আমি রাজি হইনি। আমি কাঁদছিলাম এবং ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু টিসিএস আমার প্রথম কোম্পানি—আমার হারানোর কিছু নেই। তারা আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পর খারাপ রিভিউ দেওয়ার হুমকি দেয়, তাই আমি বলি, ‘আপনাদের যা ইচ্ছা হয় করুন, কিন্তু আমি পদত্যাগ করব না,’ এবং আমি সেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। আমি ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি শক্ত থাকার চেষ্টা করেছি।’

ওই কর্মী, যিনি একজন সিনিয়র কর্মী নন এবং কোনো ছাঁটাই তালিকাতেও তার নাম নেই কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন যে কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে ‘বেঞ্চে থাকা’ কর্মীদের (অর্থাৎ, যাদের হাতে কোনো সক্রিয় প্রোজেক্ট নেই) ছাঁটাইয়ের টার্গেট করছে কারণ তারা ‘সহজ শিকার’।