অবৈধ দখলদারিত্ব ও বেআইনি নির্মাণে শূন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, এফআইআর ও জব্দকরণের নির্দেশ, কাঠিগড়া অঞ্চলে অভিযান শুরু
জনসংযোগ, শিলচর, ১৭ সেপ্টেম্বর :- আসামের অন্যতম এক যুগান্তকারী পরিকাঠামো প্রকল্প পাঁচগ্রাম –বরাপানি হাই-স্পিড করিডরকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিলো কাছাড় জেলা প্রশাসন। জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব মঙ্গলবার স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে দেন যে কাঠিগড়া মহকুমার কালাইন – রাতাছড়া প্যাকেজের চার লেন গ্রিনফিল্ড অ্যালাইনমেন্টের ধার ঘেঁষে যেকোনো প্রকার বেআইনি নির্মাণকাজ ও কৃষি দখল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
গত কয়েকদিনে প্রশাসনের কাছে একাধিক ছবি ও রিপোর্ট আসে, যেখানে দেখা যায় পরিকল্পিতভাবে নতুন ঘরবাড়ি ও কৃষিকাজ শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে। প্রশাসনের মতে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভবিষ্যতের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ঘিরে অযথা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ময়দানে নেমেছে কড়া নির্দেশ নিয়ে। দখলদারদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করা হচ্ছে, এফআইআর রুজু হচ্ছে এবং বেআইনি কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় কাঠিগড়ার সার্কেল অফিসার নিজে ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ করে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং সাইট থেকে সিমেন্টের বস্তা ও কংক্রিটের ব্লকসহ একাধিক সামগ্রী জব্দ করেন।
জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১৫ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া নোটিফিকেশনের পর যেকোনো ধরনের বেআইনি কাজ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করা হবে। সেইসঙ্গে এইসব নতুন কাঠামো ক্ষতিপূরণের আওতায় পড়বে না। শূন্য ক্ষতিপূরণই হবে এর ফলাফল।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সপ্তাহেই জেলা প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে আসন্ন হাই-স্পিড করিডর প্রকল্পের জন্য কাছাড় জেলার ৪৫টি গ্রাম চিহ্নিত হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো নতুন উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে না। সেই সতর্কতাকে বাস্তবায়িত করতে এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ শুরু হলো।
জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)–এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত পাঁচগ্রাম–বরাপানি হাই-স্পিড করিডর বারাক উপত্যকার জন্য এক যুগান্তকারী প্রকল্প হতে চলেছে। এটি শুধু বর্তমান জাতীয় সড়কের চাপ কমাবে না, বরং দ্রুত সংযোগ, বাণিজ্যের প্রসার ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

প্রকল্পকে ঘিরে প্রশাসনের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব বলেন, “এই করিডর কাছাড় জেলার ভবিষ্যৎ বিকাশের লাইফলাইন। সরকার প্রকৃত ভূমি মালিকদের অধিকার সম্পর্কে সংবেদনশীল, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সুযোগসন্ধানী দখলদারিত্ব বা জল্পনামূলক নির্মাণ প্রকল্পকে ব্যাহত করতে দেওয়া হবে না। মানুষকে বুঝতে হবে যে অবৈধ কাঠামোর জন্য ক্ষতিপূরণ হবে শূন্য।
স্বচ্ছ নির্দেশিকা ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কাছাড় প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, এই মেগা প্রকল্পের স্বার্থ রক্ষা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না। অবৈধ কার্যকলাপকে প্রাথমিক পর্যায়েই থামিয়ে দিয়ে জেলার উন্নয়ন অগ্রাধিকারকে নিরবচ্ছিন্ন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
