– রত্নজ্যোতি দত্ত –
হায়দরাবাদ, ২৫ মার্চ :- National Institute of Nutrition (এনআইএন), যা Indian Council of Medical Research-এর অধীনে পরিচালিত, ডায়াবেটিস ও স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক একটি নতুন পলি-হার্বাল ফর্মুলেশন তৈরি করেছে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এই ফর্মুলেশন দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা – যেমন কিডনি বিকল হওয়া, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং স্নায়ুর ক্ষতি – প্রতিরোধেও কার্যকর হতে পারে।
গবেষকরা জানান, প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে মূলত রক্তে শর্করার মাত্রা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ, সেখানে এই নতুন ফর্মুলেশনটি একাধিক জৈবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে কাজ করে। বিস্তারিত গবেষণার ভিত্তিতে আদা, দারুচিনি, গোলমরিচ, আমলকি এবং হলুদের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, এই ফর্মুলেশনে থাকা বায়োঅ্যাকটিভ যৌগগুলি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, নিম্নমাত্রার প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মতো মূল কারণগুলির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
“ডায়াবেটিস ও মুটাপার ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র Glucose পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়,” বলেন গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ড. ভানুপ্রকাশ রেড্ডি। তিনি আরও বলেন, এই ফর্মুলেশনটি ওজন ও গ্লাইসেমিয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার অগ্রগতি কমাতে পারে।
এনআইএনের পরিচালক ড. ভারতী কুলকার্নি জানান, এই গবেষণা সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। “আমরা বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করছি, যাতে এই গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য পণ্যে রূপান্তর করা যায়,” তিনি বলেন।
ড. কুলকার্নি এবং অন্যান্য সিনিয়র বিজ্ঞানীরা ২৩ মার্চ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে আসা দিল্লি-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
এদিকে, কিশোরদের মধ্যে বাড়তে থাকা স্থুলতা মোকাবিলায় এনআইএন “লেটস ফিক্স আওয়ার ফুড” (এলএফওএফ) উদ্যোগ পরিচালনা করছে, যা UNICEF India এবং Public Health Foundation of India-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে উচ্চ চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত খাবারের আগ্রাসী বিপণন এবং আল্ট্রা-প্রসেসড খাবারের সহজলভ্যতা ভারতীয় তরুণদের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
