তুলির ক্যানভাসে দেবদেবী: সাফল্যে তরুণ শিল্পী পৌষালী নাথ

যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ১০ জানুয়ারি :- প্রত্যেক শিল্পীর জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা আজীবন স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকে। তেমনই এক গর্বের ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলেন তরুণ শিল্পী পৌষালী নাথ। বাবা প্রিয়তোষ নাথ ও মা মাধবী নাথের কন্যা পৌষালী ২০২৪ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে বর্তমানে এম.এ. পড়াশোনা করছে। ছোটবেলা থেকেই শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত এই প্রতিভাবান শিল্পী সম্প্রতি এক অনন্য সাফল্যের মাধ্যমে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমটিলা বড়গোল শিব মন্দিরে বিরাজমান হর – পার্বতীর ঐশ্বরিক রূপকে নিজের তুলির আঁচড়ে জীবন্ত করে তুলতে সক্ষম হয়েছে পৌষালী। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়াসে এই চিত্রকর্মটি সম্পূর্ণ করতে পেরে শিল্পী নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত ও আবেগাপ্লুত বলে জানিয়েছে। পৌষালীর কথায়, ভগবানের প্রতি তাঁর অটুট বিশ্বাসই এই সৃষ্টির মূল প্রেরণা। তিনি বিশ্বাস করেন, ঈশ্বরের কৃপা ও নির্দেশ ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। কখনও কল্পনাও করেননি যে ভগবানের প্রতিকৃতি আঁকার এমন সৌভাগ্য তাঁর জীবনে আসবে। এই সুযোগ লাভ করায় তিনি নিজেকে পরম সৌভাগ্যবান মনে করছেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই বিশেষ চিত্রকর্মটি উক্ত এলাকার অন্তর্ভুক্ত আরাধনা সংস্কৃতিক সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ২৮তম সাংস্কৃতিক মেলা ও প্রদর্শনী – ২০২৬-এ প্রদর্শিত হয়। গত ২ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মেলা ও প্রদর্শনী পৌষালীর শিল্পযাত্রায় এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, এই চিত্রকর্মটি ‘ঈষিকা’ ম্যাগাজিনের কভার পেজ হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় শিল্পীর কাছে তা এক বিরাট সম্মান ও গর্বের বিষয়। পৌষালী জানিয়েছে, এই ছবিটি আঁকার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর দাদু নিবারণ নাথ এবং কাকা মিহির নাথ। তাঁদের উৎসাহ, সহানুভূতি ও শিল্পবোধ তাঁকে এই কাজটি সম্পন্ন করার সাহস জুগিয়েছে। তাঁদের প্রতি সে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।এছাড়াও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সুরজ ঘোষ স্যারকে। তাঁর দিকনির্দেশনা, অনুপ্রেরণা ও শিক্ষাই তাঁকে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে বলে জানান পৌষালী। একই সঙ্গে মা–বাবার আশীর্বাদ ও নিঃস্বার্থ সমর্থনের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে সে।সবশেষে, ‘ঈষিকা’ ম্যাগাজিন, আরাধনা সংস্কৃতিক সংস্থা এবং সকল শুভানুধ্যায়ী দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পৌষালী আশাবাদ ব্যক্ত করেছে – সবার ভালোবাসা ও আশীর্বাদ ভবিষ্যতে তাকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ শিল্পসৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।