কমনওয়েলথ আয়োজন ভারতের উন্নত দেশ হওয়ার এক স্বপ্নিল ধাপ

নাইজেরিয়াকে পিছনে ফেলে শতবর্ষী কমনওয়েলথ গেমসের হোস্ট সিটি হিসেবে আমেদাবাদের নাম ঘোষিত হতেই ভারতের ক্রীড়া – ইতিহাসে যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। স্বাধীনতার শতবর্ষের প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশের ‘উন্নত ভারত @2047’-এর স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত পেল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সাফল্যকে ভারতের স্পোর্টসম্যানশিপ ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতার দৃঢ় প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, “ভারত এখন বৈশ্বিক ক্রীড়া মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি জানান, বসুধৈব কুটুম্বকমের চেতনায় ভারত এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে মহোৎসবে পরিণত করতে প্রস্তুত।

২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই জানানো আমেদাবাদ দ্রুতই ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-আয়োজনের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। কেবল ক্রীড়া উন্নয়নই নয়, বরং সফট পাওয়ার, অর্থনৈতিক ব্র্যান্ডিং এবং অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখছে এই উদ্যোগ।

গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ স্পোর্টস জেনারেল অ্যাসেম্বলির সর্বসম্মত অনুমোদন ভারতের সুপরিকল্পিত প্রস্তাব এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রমাণ। কমনওয়েলথ স্পোর্টসের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড রুকারে বলেন, “২০৩০ সালের গেমস কমনওয়েলথ স্পোর্টসের নতুন স্বর্ণযুগের শুরু হবে – এবং ভারত সেই পথপ্রদর্শক।”

কমনওয়েলথ গেমস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট পি টি উষা বলেন, “ভারত এই দায়িত্ব পেয়ে সম্মানিত।” তাঁর মতে, ২০৩০ সালের আসর শুধু শতবর্ষ উদযাপনের নয় – বরং ভবিষ্যৎ শতকের ভিত্তি নির্মাণেরও একটি সুযোগ।

ঘোষণার পরপরই গ্লাসগোর হলে ২০ জন গরবা নৃত্যশিল্পী ও ৩০ জন ঢোলবাদকের চমকপ্রদ পরিবেশনা জানিয়ে দিল – গেমসে ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তিও হবে বড় আকর্ষণ।

১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টনে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমস এবার শতবর্ষে। ভারতের সামনে এখন শুধু আয়োজন নয় – বিশ্বকে দেখানোর সুযোগও যে দেশের ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংগঠনিক দক্ষতা নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে।