ছট্‌ : জীবনের চিরন্তন আলো ও বন্ধন

বিপাশা দাশগুপ্ত, কলকাতা

ত্রেতাযুগে সরযুর পাড়ে বনের নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় মা সীতা অস্তগামী সূর্যকে প্রণাম করে জীবনের আলোর উৎসের প্রতি এক নীরব নিবেদন করেছিলেন। শ্রীরামচন্দ্র সূর্যদেবের থেকে, প্রজাদের জীবনের সুখ – সম‍ৃদ্ধি প্রার্থনা করেছিলেন।

সেই মুহূর্তে সূর্য ও মানুষের মধ্যে গড়ে উঠেছিল এক চিরন্তন বন্ধন – শুদ্ধতা, আশা ও জীবনীশক্তির প্রতীক হয়ে।যুগান্তরে দ্বাপরযুগে দ্রৌপদীর আহ্বানেও সেই অনন্তশক্তির আলোরই প্রতিধ্বনি – “হে প্রাণদাতা, আমাদের শক্তি

দাও।” যুগ পাল্টেছে, মানুষ বদলেছে, তবু মানুষের অন্তরের আকাঙ্ক্ষা একই – অন্ধকারের মাঝে আলো খুঁজে পাওয়ার অদম্য ইচ্ছা। আজও কার্তিকের ভোরে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও হিন্দু নারীরা নদীর ঘাটে সূর্যকে প্রণাম

জানান। ধূপের গন্ধ, ঢোলের তালে, প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় জীবন্ত হয়ে ওঠে যুগযুগান্তের সেই বিশ্বাস। সূর্যের প্রথম কিরণ জলের বুক ছুঁলে সমবেত কণ্ঠে উচ্চারিত হয় – “সূর্য দেব, জীবন দাও, আলো দাও।” ছট্‌ কেবল এক

ধর্মীয় আচার নয়, এটি জীবনের দর্শন। সূর্য কেবল দেবতা নন, তিনি মানুষের অন্তরের আলোকস্বরূপ। ছট্‌ শেখায়, যত গভীরই অন্ধকার হোক, আলো সবসময় ফিরে আসে – নতুন জীবনের প্রতিশ্রুতি ও অদম্য বিশ্বাস হয়ে।