পুলিশিং দ্য রিপাবলিক প্রকাশে পুলিশের জবাবদিহি নিয়ে সরব বিচারপতি ভুঁইয়া
পুলিশের হাতে থাকা বিপুল ক্ষমতা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্নটি সামনে এল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সচিব তথা আইপিএস অফিসার যশোবর্ধন আজাদের বই ‘পুলিশিং দ্য রিপাবলিক’-এর প্রকাশ অনুষ্ঠানে।
বিচারব্যবস্থা, রাজনীতি ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা পুলিশের জবাবদিহি বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ব্লুমসবারি প্রকাশিত বইটিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আজাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী ভাষণে, ৪ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া বলেন, গণতন্ত্রে পুলিশের ভূমিকা সংবিধান এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া জরুরি।
হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পুলিশ কোনও নাগরিককে গ্রেফতার করলেই কি তাঁর বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার চলে যায়? গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গেই কি নাগরিকের জীবনের অধিকার স্থগিত হয়ে যেতে পারে?”
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ডি কে বসু মামলার রায়ের উল্লেখ করে ভুঁইয়া বলেন, “আইনের শাসনে পরিচালিত সভ্য সমাজে হেফাজতে মৃত্যু সম্ভবত সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলির একটি।”
ভুয়ো সংঘর্ষের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। তাঁর কথায়, “এনকাউন্টার দর্শন আসলে একটি অপরাধমূলক দর্শন।” এই ধরনের ঘটনা আইনের শাসনের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে ভুঁইয়া বলেন, “পুলিশের অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং জবাবদিহি একমাত্র আইনের শাসনের প্রতিই হওয়া উচিত।”
এর পরের আলোচনায় অংশ নেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা সাংসদ পি চিদম্বরম, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন পুলিশ মহানির্দেশক ডি শিবানন্দন এবং আজাদ। সঞ্চালনায় ছিলেন ইন্ডিয়া টুডে-র ম্যানেজিং এডিটর মরিয়া শাকিল।
বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণন।
চিদম্বরম প্রশ্ন তোলেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কেন হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর মেয়াদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র কাজকর্মকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ এবং তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কথাও উল্লেখ করেন।
মহারাষ্ট্র পুলিশের প্রাক্তন প্রধান শিবানন্দন হেফাজতে, বিশেষত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, ইন্টারপোলের মতে হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নির্মূল করা সম্ভব।
আজাদ বলেন, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রমশ ক্ষয় নিয়ে যে প্রশ্নগুলি রয়েছে, সেগুলিকে বৃহত্তর জনপরিসরে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসাই তাঁর বইটির অন্যতম উদ্দেশ্য।