পশ্চিম বঙ্গে চারটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে রাষ্ট্রভক্ত বলে প্রশংসা মূখ্যমন্ত্রী অধিকারীর
সংবাদ সংস্থা, ০৫ অক্টোবর :- পশ্চিম বঙ্গে চারটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তিনি
আরও বলেন, হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা মূলতঃ সেনাবাহিনীর হাতে থাকা এয়ারপোর্ট। সেনাবাহিনীও সেই বিমানবন্দর যাত্রী পরিষেবার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিতে চেয়েছিল।
সেই লক্ষ্য কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে মৌ সাক্ষর করে ফেলল বাংলার রাজ্য সরকার। দেড় বছরের মধ্যেই ওইসব বিমানবন্দর চালু হয়ে যাবে। কলকাতা থেকে লন্ডন এবং কলকাতা থেকে ইউরোপ সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় শুরু করার জন্য কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে আর নাইডুর কাছে আবেদনপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্নে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্ডাল এয়ারপোর্ট থেকে দক্ষিণ ভারতের জন্য বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আমি অনুরোধ করছি। এছাড়া অযোধ্যা,তিরুপতি, খাটুসাম ও অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির দর্শনের জন্য বিমান পরিষেবা যাতে চালু করা যায়, সেটা দেখার অনুরোধ করছি। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন এই উড়ান প্রকল্প নিয়ে। কিন্তু সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে ‘না’ বলেছিলেন। আগের সরকার কীভাবে এয়ারপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও নেগেটিভ এপ্রোচ করেছে সেটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জানা উচিৎ।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসিমারা ও কলাইকুন্ডা মূলতঃ সেনাবাহিনীর হাতে থাকা এয়ারপোর্ট। সেনাবাহিনীও সেই বিমানবন্দর যাত্রী পরিষেবার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন সরকার সেটাও মানেনি। এইসব বিমানবন্দরের কারণে শুধু বিমান যাত্রীদেরই সুবিধা হবে তাই নয়, এইসব এলাকার ফুড প্রসেসিং ইউনিট থেকে শুরু করে ছোটো ছোটো বিজনেস সেক্টরও উপকৃত হবে। মালদহ, কোচবিহারকে ফুল ফ্লেজেড এয়ারপোর্ট, কল্যানীতে নতুন গ্রীণফিল্ড এয়ারপোর্টের জন্য ২০০০ একরের জমি ইতিমধ্যেই সরকার চিহ্নিত করে কাজ শুরু করেছে। ভারতের সব পাইলট রাষ্ট্রভক্ত। আমাদের একজন পাইলট স্মিত মচ্ছরজি রাষ্ট্রভক্তের মত কাজ করেছেন। বেহালা থেকেও আমরা এইরকম রাষ্ট্রভক্ত পাইলট পাব এই আশা করি। উল্লেখ্য, ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট স্মিত মচ্ছর ককপিটে কো পাইলটের হামলার শিকার হয়েও বিমানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন। তাঁকে হিরো বলে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মৌ সাক্ষর অনুষ্ঠানে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে আর নাইডু বলেন, এই মৌ সাক্ষর পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের একটা দীর্ঘদিনের দাবি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর থেকেই যেভাবে একটাও দিন নষ্ট না করে যেভাবে প্রতিদিন কাজ করে চলেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচন শুধু একটা ভোট হিসাবে হয়নি, একটা ইলেকট্রোরাল রেভলিউশন হয়েছে। দূর্ভাগ্যের বিষয়ে এখানে বিগত যে সরকার ছিল তারা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে কখনই সহযোগিতার সম্পর্ক রাখেনি। অনেক আগেই এই এয়ারপোর্টগুলো হয়ে যেতে পারত।
নাইডু আরও বলেন, ২৭০০ মিটার রানওয়ে আছে এই মুহুর্তে হাসিমারায়। বালুরঘাটের এয়ারস্ট্রিপ বাড়ানোর কাজ করা হবে। পুরুলিয়ায় নতুন করে এয়ারপোর্ট তৈরি করা হবে। গত বারো বছরে দেশের সব রাজ্য নিজের নিজের রাজ্যে বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে, শুধু বাকি ছিল পশ্চিমবঙ্গ। কথা দিচ্ছি আগামি দুই বছরের মধ্যে এরাজ্যের বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে আমরা এখান থেকে সমগ্র ইউরোপের জন্য সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করব। ২০১৪ সালে যখন দেশে ৭৪ টা এয়ারপোর্ট ছিল, এখন সেটা ১৬৬ টা হয়েছে। গত দশ বছরে বাংলা যতটা পিছিয়েছে, আগামি দশ বছরে কেন্দ্র সরকার বাংলাকে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দেওয়া হবে। আপাতত চারটে এয়ারপোর্টের কথা বলা হচ্ছে, সেটার সংখ্যা আটটাও হতে পারে। কলকাতার আশেপাশে দ্বিতীয় বিমানবন্দরের চিন্তাভাবনা খুবই গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হচ্ছে।