রাজ্যের ভূমিহীন, নদীভাঙন সহ উচ্ছেদিত ভুমিহারাদের স্বার্থ রক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সহ দুর্যোগ মোকাবেলায় নতুন পরিকল্পনায় আরো ও একধাপ সরকারের
শীঘ্রই ভূমিহীনদের স্বার্থ সুরক্ষায় রাজ্য সরকার আনছে সংশোধনী বিল,সদনে স্পষ্ট বললেন রাজস্ব মন্ত্রী
রাজ্যের ভূমিহীন ও দূর্যোগ মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সরকার। বাজেট অধিবেশনে বৃহস্পতিবার ২৪ জুলাই রাজ্যের রাজস্ব মন্ত্রী কেশব মহন্ত নতুন পরিকল্পনা এবং ভূমিহীন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত,দেশ বিভেদের সময় বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের সুরক্ষায় ল্যান্ড পুলিশি-১৮৮৬ এবং অসম ভূমিনীতি -২০১৯ এর সংশোধনী আনতে সরকার তৎপর এবং শীঘ্রই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করলেন অধ্যক্ষ রঞ্জিত দাসের উপস্থিতিতে বিভাগীয় মন্ত্রী কেশব মহন্ত। অন্যদিকে রাজ্যের পরিবার কল্যাণ ও চিকিৎসা এবং গবেষণা বিভাগের শূন্যপদ শীঘ্রই পূরণ করার দাবী ও প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ADRE পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে তৎপর সরকার। এছাড়াও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে রাজ্যে সংগঠিত ভয়াবহ নদীভাঙন, তলিয়ে যাওয়া বসতবাড়ি, সহ বিভিন্ন কারণে ভূমিহীনদের সরকারি খাস জমিতে অসম ভূমি নীতির অধীনে পাট্টা সহ জমি প্রদানের ব্যবস্থা নেবে সরকার, স্পষ্ট করলো সরকার। ইতিমধ্যে সার্ভে চলছে কোথায় কোথায় বেদখল, এবং সরকারের খাস জমি অতিরিক্ত রয়েছে এসবের উপর ভিত্তি করে খুব শীঘ্রই ভূমিহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এদিকে, কাঠিগড়া বিধানসভার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ প্রশ্ন সহ প্রস্তাব রাখেন সীমান্ত সমষ্টি কাঠিগড়াতে রয়েছিল আর.আর ভিলেজ,যা ইতিমধ্যে উঠিয়ে নিয়ে সাধারণ খাস জমিতে রূপান্তরিত করেছে সরকার। তবে প্রস্তাবে উল্লেখ করেন বিধায়ক কমলাক্ষ কাঠিগড়া সমষ্টিতে Enemy property/Enemy Land/Evacuee property রয়েছে প্রায় ৭৭০০ বিঘার অধিক জমি রয়েছে। যার মধ্যে এখনও খাস জমিতে রূপান্তরিত হয়নি বা যারা উপভোগ করছে তাদেরকে দেওয়া হয়নি পাট্টা। তাই এই ব্যাপারে সরকার পদক্ষেপ নিয়ে উল্লেখিত জমির উপভোক্তাদের সঠিক বিধি মেনে পাট্টা প্রদান সহ জমির বাস্তব রূপায়ণ এবং শরণার্থী শিবির, শরণার্থী গ্রাম সরকারি তালিকা থেকে বাতিল করে স্থায়ী ভূমির অধিকার প্রদানের দাবী এবং প্রস্তাব দেয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। তাঁর প্রতুত্তরে সংসদীয় মন্ত্রী পিযুষ হাজারিকা ও প্রস্তাব মেনে নিয়ে সদনে স্পষ্ট সমাধান সূচক উত্তর দেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ শাসক দলের বিধায়করা সম্মতি জানালে ও বেশকিছু সময় উতপ্ত হয়ে উঠে সদন। ১৯৫১ এবং ১৯৭১ র পৃথক পৃথক দেশ বিভাজন এবং বহি:দেশের প্রত্যাগমন নিয়ে সরব হন মন্ত্রী পিযুষ। তাঁর এই প্রতুত্তরে বিরোধী বিধায়ক শেরমান আলি পাল্টা সওয়াল করেন বাংলাদেশীর পক্ষে দাঁড়িয়ে। রীতিমতো মন্ত্রী পিযুষ এর মন্তব্যে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও হিন্দু সুরক্ষায় শাসক দলের বিধায়করা সম্মতি জানায়। সবমিলিয়ে উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ ও ভূমিহীনদের স্বার্থ সুরক্ষায় সার্থক পূর্ণ পরিকল্পনায় সদন সম্পন্ন হয় এ সপ্তাহের জন্য।