নাগোয়া এশিয়ান গেমসে এশিয়ার সেরা চার ক্রীড়া শক্তির তালিকায় ভারত
রত্নজ্যোতি দত্ত
নাগোয়া, জাপান, ৪ অক্টোবর :- আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৮৫টি পদক জিতে সামগ্রিক পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত।
গেমসে ভারতের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (আইওএ) দুই ক্রীড়াবিদকে নতুন পুরস্কারে সম্মানিত করার ঘোষণা করেছে।
হাংঝৌ এশিয়ান গেমসেও ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল।
এই সংস্করণে ভারতের আগে রয়েছে চীন, আয়োজক জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। এবারের এশিয়ান গেমসের মূল ভাবনা ছিল ‘ইমাজিন ওয়ান এশিয়া’।
আইওএ সভাপতি পিটি ঊষা গেমসের সেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদের জন্য রাজা রণধীর সিং পুরস্কার এবং সেরা মহিলা ক্রীড়াবিদের জন্য যশপাল রানা পুরস্কার চালু করেছেন। ভারতীয় ক্রীড়াজগতের দুই বিশিষ্ট তারকার নামে এই পুরস্কারগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী তিরন্দাজ কুমকুম মহোদ প্রথম যশপাল রানা পুরস্কার লাভ করেন। এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই তিনি তিনটি পদক জেতেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি সোনা।
অঙ্কিতা ভকত ও কীর্তির সঙ্গে মিলে মহোদ মহিলাদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে সোনা জেতেন। এর ফলে ১৯৯৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমস থেকে টানা সাতবার এই ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্যের অবসান ঘটে।
এর পর ব্যক্তিগত রিকার্ভেও সোনা জিতে মহোদ মহিলাদের রিকার্ভ ইভেন্টে দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে দেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য ভারতের একটি কোটা স্থান নিশ্চিত করেন।
গেমস শেষ হওয়ার পর ৪ অক্টোবর প্রকাশিত আইওএ-র বিবৃতিতে ঊষা বলেন, “কুমকুমই যশপাল রানা পুরস্কারের প্রথম প্রাপক হওয়াটা যথার্থ, কারণ ১৯৯৪ সালের এশিয়ান গেমসেই যশপাল একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, চাপের মুখে কুমকুমের সংযম এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরার ক্ষমতা ভারতীয় তিরন্দাজির ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
ঊষা বলেন, ভারতের তিরন্দাজরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের দরজায় কড়া নাড়ছিলেন। কুমকুম ও তাঁর রিকার্ভ দলের সতীর্থদের পারফরম্যান্সকে তিনি ভারতীয় তিরন্দাজির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন।
সেরা পুরুষ ক্রীড়াবিদের রাজা রণধীর সিং পুরস্কার পেয়েছেন কুস্তিগির সুজিত কালকাল। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে তিনি সোনা জেতেন।
সেমিফাইনালে জাপানের বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাকে হারানোর পর ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমাজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করেন ২৩ বছরের কালকাল। একসময় ২-৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা কালকাল শেষ মুহূর্তে লড়াইয়ে ফিরে ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন।
এর ফলে এশিয়ান গেমসে ৬৫ কেজি বিভাগে ভারতের সাফল্যের ধারাও বজায় থাকে। এর আগে ২০১৪ সালে যোগেশ্বর দত্ত এবং ২০১৮ সালে বজরং পুনিয়া এই বিভাগে সোনা জিতেছিলেন।
ঊষা বলেন, “কুস্তি ভারতের খেলা, এবং সুজিতের এই পারফরম্যান্স বহু বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আইওএ জানিয়েছে, আগামী দিনে একটি অনুষ্ঠানে মহোদ ও কালকালকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
দোহা পরবর্তী গন্তব্য
৪ অক্টোবর আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে এশিয়ান গেমসের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে কাতারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০৩০ সালের দোহা এশিয়ান গেমসের কাউন্টডাউন শুরু হল।
নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে সমাপ্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। একই স্টেডিয়ামে গত ১৯ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও হয়েছিল।