ট্রাম্পের ভাগ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার, নেট দুনিয়ায় তোলপাড়
প্রেসিডেন্ট থাকুন বা না থাকুন :- বিরাট সুখবর ট্রাম্পের জীবনে, অবশেষে নোবেল শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত
সংবাদ সংস্থা, ০৩ অক্টোবর :– অসলোর ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (PRIO)-এর মতে, এবারের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। ইউক্রেন যুদ্ধের মতো তীব্র সংঘাতের সময়েও আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো বৈরী দেশগুলি যেভাবে মহাকাশে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে যৌথভাবে কাজ করে চলেছে, তাকে শান্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের এক বিরল প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হিসেবে বিবেচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার দিন এগিয়ে আসছে। আগামী ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলো থেকে ঘোষিত হতে চলেছে এবারের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম। এই বছর মোট ২৮৭টি নাম (যার মধ্যে ২০৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা) নোবেল কমিটির কাছে জমা পড়েছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ও তাঁর বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘নোবেল স্বপ্ন’। ট্রাম্পের নোবেল আকাঙ্ক্ষা ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার তীব্র ইচ্ছার কথা কোনো দিনই গোপন রাখেননি। বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস বা জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি একাধিক বৈশ্বিক সংঘাত ও যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর নাম মনোনয়ন বা আলোচনায় উঠে এসেছিল। ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে নোবেল কমিটি তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। এবারের আন্তর্জাতিক প্রেডিকশন মার্কেট ও বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোতেও ট্রাম্পের নাম শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের তালিকায় জোরালোভাবেই ঘোরাফেরা করছিল। কেন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্পের সম্ভাবনা? বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেডিকশন বাজারে নাম থাকলেও ট্রাম্পের নোবেল জয়ের পথে বড়সড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানের সংঘাত, সামরিক পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন দেশের ওপর চাপানো শুল্ক নীতি ট্রাম্পের ভাবমূর্তিকে অত্যন্ত বিতর্কিত করে তুলেছে। সাধারণত নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এমন কোনো ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করতে চায় না, যাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপ বিশ্বশান্তির চেয়ে সংঘাতকে বেশি উস্কে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের বড় অংশের ধারণা, কমিটি এবার কোনো অরাজনৈতিক ও অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব বা প্রতিষ্ঠানকেই অগ্রাধিকার দেবে। দৌড়ে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?
নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য তালিকায় ট্রাম্প ছাড়াও একাধিক চমকপ্রদ নাম উঠে এসেছে :- মার্ক কার্নি আন্তর্জাতিক প্রেডিকশন বাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ট্রাম্পের চড়া শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জলবায়ু ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কারণে তিনি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) অসলোর ‘পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (PRIO)-এর মতে, এবারের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। ইউক্রেন যুদ্ধের মতো তীব্র সংঘাতের সময়েও আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো বৈরী দেশগুলি যেভাবে মহাকাশে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে যৌথভাবে কাজ করে চলেছে, তাকে শান্তি ও বৈশ্বিক ঐক্যের এক বিরল প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী নোবেল কমিটি তাদের মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা ৫০ বছর পর্যন্ত সম্পূর্ণ গোপন রাখে। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্যদের নাম কেবল বিশেষজ্ঞ মহলের অনুমান ও বাজির বাজারের ট্রেন্ড মাত্র। আগামী ৯ অক্টোবরই স্পষ্ট হবে, ট্রাম্পের বহুদিনের আক্ষেপ মিটবে, নাকি নোবেল শান্তি পুরস্কারের ট্রফি উঠবে অন্য কোনো শান্তিদূতের হাতে।