হিন্দু সম্রাট অশোক সিংহলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিলচরে বছরব্যাপী কর্মসূচির সূচনা, ব্যতিক্রমী সাড়া সর্বত্রে
যুব বিচিত্রা প্রতিনিধি, শিলচর ০১ নভেম্বর: বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক প্রয়াত অশোক সিংহলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিলচরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রবিবার শিলচরের গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মশতবর্ষ উদযাপন বছরব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সাধনানন্দজী মহারাজ। মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোপালজী নাগরকট্টে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিরঞ্জন রায়। এদিনের অনুষ্ঠানে মঞ্চে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের সভাপতি শান্তনু নায়েক, পরিষদের গুয়াহাটি ক্ষেত্র সংগঠন মন্ত্রী ড. দিনেশ তিওয়ারি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বরিষ্ঠ প্রচারক শশীকান্ত চৌথাওয়ালে, গুয়াহাটি ক্ষেত্রের ধর্মপ্রসার প্রমুখ পূর্ণচন্দ্র মণ্ডল, বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রান্ত কার্যালয় নির্মাণ সমিতির অধ্যক্ষ উদয় শঙ্কর গোস্বামী, জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের লক্ষীপুর সমজিলার উপদেষ্টা বীরেন্দ্র চন্দ্র ডাওলাগপু-বর্মন, রাম কথা কুঞ্জ অযোধ্যার মুখ্য শিল্পী রঞ্জিত মণ্ডল, বর্ষীয়ান সন্ত ঋতুবিজয় গোস্বামী, পরিষদের প্রান্তের উপাধ্যাক্ষা অসীমা ভট্টাচার্য, দক্ষিণ অসম রেঞ্জ ডিআইজি জয়শ্রী খের্ষা, পরিষদের প্রান্তের উপাধ্যাক্ষা অসীমা ভট্টাচার্য প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রান্তের মন্ত্রী গোপীব্রত গোস্বামী। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে প্রয়াত অশোক সিংহলের জীবনাদর্শ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে আলোচিত হয় রাম জন্মভূমি আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বক্তাদের মতে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি যে নেতৃত্ব ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা আজও বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জন্মগ্রহণ করেন অশোক সিংহল। ছাত্রজীবন থেকেই দেশ ও সমাজের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক হিসেবে তিনি নিজেকে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত করেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে থেকে তিনি সংগঠনকে দেশ-বিদেশে বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষত রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও সংগঠক হিসেবে তিনি জাতীয় স্তরে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তাঁর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী এক বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন, কর্ম, আদর্শ এবং সাংগঠনিক অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে এদিন ৩৫ জন কর সেবককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। উপরোক্ত অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী সাড়া ফেলেছে হিন্দু সনাতনী দের মধ্যে।