রাহু পিছু ছাড়ছে না জ্ঞানশের, আদালতে অস্বস্তি ফের, ফর্ম ৬ বদলের অনুমতি কখনই সুপ্রিম কোর্ট দেয়নি – জানিয়ে দিলেন মুখ্য বিচারপতি সূর্যকান্ত
সংবাদ সংস্থা, ০৬ অক্টোবর :- রাহুর দশা যেন কিছুতেই কাটছে না জ্ঞানেশ কুমারের। একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি জ্ঞানেশ।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, দিল্লিতে এই প্রক্রিয়ায় দুটি নতুন শর্ত যুক্ত করে বহু মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সমালোচকদের মূল দাবি – কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক নিয়মানুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়ম সংশোধন না করা পর্যন্ত কোনও সংবিধিবদ্ধ ফর্ম কমিশন একতরফাভাবে বদলাতে পারে না।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ। SIR এবং সেই সংক্রান্ত নাম বাদিলের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে পরিবর্তিত ‘ফর্ম-৬’ (Form 6) ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া মামলার শুনানিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান দেশের সুপ্রিম কোর্টের। দেশের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্তের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬-এর কোনও সংশোধন করার অনুমতি বা অনুমোদন সুপ্রিম কোর্ট কখনও দেয়নি।
শুনানির প্রেক্ষাপট কী ছিল?
ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য ভারতের সংবিধিবদ্ধ নির্বাচনী নিয়মাবলী অনুযায়ী ‘ফর্ম-৬’ পূরণ করতে হয়। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ফর্ম-৬-এ কিছু নতুন শর্ত ও অতিরিক্ত বিবরণ যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, দিল্লিতে এই প্রক্রিয়ায় দুটি নতুন শর্ত যুক্ত করে বহু মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সমালোচকদের মূল দাবি – কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক নিয়মানুযায়ী গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়ম সংশোধন না করা পর্যন্ত কোনও সংবিধিবদ্ধ ফর্ম কমিশন একতরফাভাবে বদলাতে পারে না। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ভেতরের দুই নির্বাচন কমিশনারও এই পরিবর্তনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ :-
শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও যুক্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন :-
‘কোনও সংশোধিত ফর্ম-৬-কে আমরা অনুমোদন দিইনি, এই বিষয়ে একদম পরিষ্কার হওয়া দরকার। যখন মূল রেকর্ড আদালতে পেশ করা হবে, তখন আমরা দেখতে চাইব কে বা কারা এই পরিবর্তন করেছে।’ আদালত আরও জানায়, যদি নির্বাচন কমিশনের রেকর্ড থেকে প্রমাণ মেলে যে কমিশন নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি, তবে শীর্ষ আদালত তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একতরফা সিদ্ধান্ত :-
মামলাকারীদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষতি করছেন। তাই তাঁকে অবিলম্বে পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা বা তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের একতরফা অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করার আবেদন জানানো হয়।
তবে সুপ্রিম কোর্ট কোনও একতরফা স্থগিতাদেশ বা বরখাস্তের নির্দেশ দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন :-
নির্বাচন কমিশন একটি যৌথ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ী কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হতে হবে, আর সর্বসম্মতি না থাকলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে হতে হবে। কেবলমাত্র সংবাদপত্রের খবর বা একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটিকে বেআইনি বা একতরফা বলে ঘোষণা করা যায় না।
আদালত সব পক্ষের বক্তব্য ও কমিশনের আনুষ্ঠানিক নথিপত্র পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে। কোনও অনিয়ম থাকলে আদালত যেকোনও সিদ্ধান্ত বাতিল (annul) করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
নোটিস জারি :-
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছে নোটিশ জারি করেছে। রেকর্ড তলব করে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত দিকটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপদ্ধতি এবং সংশোধিত ফর্ম ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে এই মামলার ভবিষ্যৎ শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।