জাপান এশিয়ান গেমস
পদকের সোনায় রূপান্তরই পরবর্তী পরীক্ষা
রত্নজ্যোতি দত্ত
নাগোয়া/দিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর: এশিয়ান গেমসের শেষ পর্বে এসে ভারতের ছবিটা স্পষ্ট—পদকের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু সোনার সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়েনি। নাগোয়া একদিকে ভারতীয় ক্রীড়ার মানের ছবি দিচ্ছে, অন্যদিকে সাফল্যকে সর্বোচ্চ পদকে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ সামনে আনছে।
এখন পর্যন্ত ভারত পেয়েছে ৫৪টি পদক—সাতটি সোনা, ২১টি রুপো ও ২৬টি ব্রোঞ্জ। এর প্রায় অর্ধেক এসেছে অ্যাথলেটিক্স থেকে, যেখানে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে ২৪টি পদক। শুটিং, আর্চারি, স্কোয়াশ, বক্সিং, ভারোত্তোলন, উশু, রোয়িং, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, কুরাশ ও মিক্সড মার্শাল আর্টসেও ভারত পদক পেয়েছে। ফলে সাফল্যের ভিত্তি এখন আর কয়েকটি নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
মহিলাদের কম্পাউন্ড আর্চারি দলের সোনা সেই বিস্তারেরই সাম্প্রতিক উদাহরণ। তবে হাংঝৌয়ের সঙ্গে তুলনা করলে সোনার ব্যবধান স্পষ্ট। ২০২৩ সালে ভারত ২৮টি সোনা-সহ মোট ১০৬টি পদক জিতে এশিয়ান গেমসে নিজেদের সেরা ফল করেছিল। নাগোয়ায় মোট পদক ইতিমধ্যেই হাংঝৌয়ের অর্ধেকের বেশি হলেও সোনার সংখ্যা তার মাত্র এক-চতুর্থাংশ।
অ্যাথলেটিক্সে ভারতের গভীরতা অবশ্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। মহিলাদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতে সোনা ছাড়াও গুলভীর সিং তিনটি পদক জিতেছেন। সার্ভেশ কুশারে, ভিথিয়া রামরাজ, অ্যান্সি সোঝান, মুরলী শ্রীশঙ্কর ও পারুল চৌধুরীরাও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
হাংঝৌতে রুপোর পর এবার রিলেতে সোনা জয়ের পর দলের সদস্য প্রাচী সিং বলেন, “গত তিন বছর ধরে সোনা জেতাই ছিল আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
শুটিংয়ে সোনার ঘাটতি অবশ্য চোখে পড়ার মতো। হাংঝৌতে ভারত এই বিভাগে সাতটি সোনা পেয়েছিল। নাগোয়ায় নীরু ধান্ডার ট্র্যাপ শুটিংয়ের ঐতিহাসিক সোনা তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ট্র্যাপে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা।
মহিলাদের ক্রিকেটে সোনা জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দলের পারফরম্যান্সকে “আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং দুর্দান্ত দলগত সংহতির” প্রতিফলন বলেছেন।
সমাপ্তির আগে আরও কয়েকটি বিভাগে ভারতের পদকের সুযোগ রয়েছে। স্কোয়াশ, হকি, ক্রিকেট ও আর্চারির মতো ইভেন্টে সেই সম্ভাবনা রয়েছে।
নাগোয়ার মূল্যায়ন তাই শুধু পদকসংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তি যে আরও বড় হয়েছে, এই গেমস তার প্রমাণ দিয়েছে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ সেই গভীরতাকে আরও বেশি সোনায় রূপান্তর করা এবং এশিয়ান স্তরের এই ধারাবাহিকতাকে অলিম্পিকের মঞ্চেও কাজে লাগানো।