পৃথিবীর কাছে ভয়ঙ্কর বিপদের ইঙ্গিত! মহাকাশেও মারাত্মক অস্ত্র মোতায়েন আমেরিকার!
সংবাদ সংস্থা, ১৫ সেপ্টেম্বর :- মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে মার্কিন দেশ। স্বীকার করেছে তাঁরা । মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, শত্রুদেশের হামলা থেকে মার্কিন সৈন্যদের রক্ষা করতে মহাকাশের কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।মার্কিন সেনা আধিকারিক মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করে নিলেও সেগুলি কী ধরনের, কতগুলো মোতায়েন করা হয়েছে, ঠিক কবে তা মোতায়েন করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু খোলসা করেননি মেঙ্ক। অর্থাৎ ইউরোপে যুদ্ধে মদত দিয়ে, মধ্য প্রাচ্যে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে জড়িয়েও ক্ষান্ত নন ট্রাম্প। এবার মহাকাশ দখলের লড়াইয়েও নেমে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।মহাকাশে রাশিয়া ও চিনের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমি নিয়ে থাকে। যে কোনও দেশের সামরিক বাহিনী মূল যে কাজে স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সেগুলি হল, এক বাহিনীর সঙ্গে অন্য বাহিনীর যোগাযোগ রক্ষা করা, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মিসাইল ট্র্যাকিং করা। কোনো দেশের স্যাটেলাইটের ওপর হামলা হলে সেই দেশের সামরিক শক্তি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এই কারণে বিশ্ব শক্তিগুলো এখন আর শুধু নতুন স্যাটেলাইট বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের স্যাটেলাইট বাঁচানো এবং প্রয়োজনে অন্য দেশের মহাকাশ ব্যবস্থাকে অকেজো করে দেওয়ার প্রযুক্তিও তৈরি করছে।বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আমেরিকার হাকাশে তাদের অস্ত্র মোতায়েন করার খবর প্রকাশ্যে আনার পর রাশিয়া ও চিনকে মহাকাশে তাদের সামরিক ক্ষমতা আরও বাড়াতে উসকে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত মহাকাশে নতুন এক বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে আরও দ্রুত করে তুলতে পারে।মার্কিন স্পেস ফোর্স-এর মতে, রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্রেরই একটি অংশ বলে মনে করে। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে রাশিয়া যদি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়ায়, তবে তারা স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ ভিত্তিক অন্যান্য প্রযুক্তিও ব্যবহার করতে পারে। রাশিয়া এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে যা দিয়ে নিজেদের স্যাটেলাইট সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি অন্য দেশের স্যাটেলাইটের ক্ষতি করা সম্ভব।মহাকাশে ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আমেরিকা চিন্তিত। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, রাশিয়া হয়তো এমন কোনো অস্ত্র তৈরি করতে পারে যা একসঙ্গে বহু স্যাটেলাইট ধ্বংস বা অকেজো করে দিতে সক্ষম। যদি সত্যি এমন কিছু ঘটে, তবে তার প্রভাব শুধু সামরিক বাহিনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, সাধারণ মানুষের ওপরেও পড়বে। স্যাটেলাইট-নির্ভর পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পথনির্দেশ (ন্যাভিগেশন), যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়ার তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।আমেরিকা, রাশিয়া বা চিনের মধ্যে যদি মহাকাশে কোনো সামরিক সংঘর্ষ ঘটে, তবে তার প্রভাব শুধু সামরিক বাহিনী বা স্যাটেলাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও এর ফলে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর নজর রাখা, দিক নির্ধারণ করা এবং দূরপাল্লার যোগাযোগ রক্ষা করার মতো নানা কাজে স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হয়। যেমন, জিপিএস-এর মতো প্রযুক্তি বিমান, জাহাজ এবং পণ্যবাহী গাড়িকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে। আবার ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সময় নির্ধারণ এবং নিখুঁত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখার জন্যও স্যাটেলাইট-নির্ভর প্রযুক্তি অত্যন্ত জরুরি।যদি বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়, তবে মোবাইল ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক, দিকনির্ণয় ব্যবস্থা, আবহাওয়ার আগাম তথ্য এবং বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে।সুতরাং, মহাকাশে শক্তি বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতা শুধুই আমেরিকা, রাশিয়া বা চীনের সামরিক লড়াইয়ের বিষয় নয়। মহাকাশের একটি বড় সংঘাত শেষ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।