বাংলা সরকারের জনকল্যাণ মূলক প্রকল্পের ঘোষণা, বাড়ি তৈরির টাকার সঙ্গেই অতিরিক্ত আরও ২৭,০০০! মোট মিলবে ১.৪৭ লাখ, এবার আবাস যোজনায় সুনামী
সংবাদ সংস্থা, ১৫ সেপ্টেম্বর :- পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড়োসড়ো সুনামী, দ্বিগুণ আনন্দ! গ্রামীণ এলাকার নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির জন্য আবাসন নির্মাণে বড় স্বস্তির খবর বাংলা সরকারের। পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনার অধীনে যোগ্য উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ২৭,০০০ টাকা পাবেন। এই বাড়তি টাকা মূলত বাড়ি নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। প্রায় ১৯ লক্ষ উপভোক্তার হাতে এককালীন ২৭ হাজার টাকা করে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পাকা বাড়ি তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা কয়েকটি কিস্তিতে দেওয়া হয়। এখন কেবল নির্মাণসামগ্রী নয়, বাড়ি তৈরির কাজে শ্রমিকদের যে শ্রম দিতে হয়, তার জন্য ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্প অনুসারে দিতে হবে মজুরি। হিসেব অনুযায়ী, একটি পাকা বাড়ি তৈরিতে প্রায় ৯৫ দিনের শ্রম প্রয়োজন হয়। রাজ্য সরকারের নির্ধারিত দৈনিক মজুরির হার অনুযায়ী ৯৫ দিনের মোট মজুরি দাঁড়ায় প্রায় ২৭,০০০ টাকা। সেই টাকাই এবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য় সরকার। রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকেই এই মজুরির টাকা মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আবাস যোজনার প্রতিটি সুবিধাভোগী পরিবার বাড়ি তৈরির নির্দিষ্ট বরাদ্দের সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা পাবেন।নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুত করার জন্য ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে জেলা ও ব্লক প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে গ্রামীণ উপভোক্তাদের বড় উপকার হবে। কারণ, আগে বাড়ি তৈরির মূল বরাদ্দ পেলেও মিস্ত্রি ও শ্রমিকের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হত। এখন মজুরি বাবদ এই অতিরিক্ত ২৭ হাজার টাকা পাওয়ায় সেই আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদী প্রশাসন।