গুপ্তধনের সন্ধান সৌদি আরবের, ঠিক মদিনার মাটির নীচে তেল-গ্যাসের পর আরও দড়ি টানাটানি শুরু হওয়ার অপেক্ষা?
সংবাদ সংস্থা, ১৫সেপ্টেম্বর :- আরব দেশে তেলের খোঁজ না পাওয়া গেলে, পশ্চিম এশিয়াকে এত আঘাত সহ্য করতে হতো না বলে কথিত রয়েছে। এবার মাটির নীচে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের খোঁজ পেল সৌদি আরব। মদিনা অঞ্চলে মাটির নীচে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিক এবং বিরল খনিজ মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সোমবার এই ঘোষণা করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ আব্দুলাজিজ বিন সলমন। ভিয়েনায় আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি-র ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, সৌদি আরব ইউরেনিয়ামের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি, সার উৎপাদনের উপজাত হিসেবেও ধাতু আহরণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। (Uranium Ore in Medina)সলমনকে উদ্ধৃত করে Arab News, যাতে তিনি বলেন, “মদিনার জবাল সইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান এবং ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিক মজুত রয়েছে। এতে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতির পাশাপাশি, উচ্চমাত্রায় বিরল খনিজের উপস্থিতি, বিশেষ করে ভারী মৌলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।”যে সময় মাটির নীচে ইউরেনিয়াম থাকার ঘোষণা করল সৌদি আরব, তা গোটা আরব দুনিয়ার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কা এবং মদিনা। সেই মদিনার নীচেই ইউরেনিয়াম পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গেল। কথিত রয়েছে, ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মক্কা থেকে মদিনায় স্থানান্তরিত হন পয়গম্বর মহম্মদ, যে কারণে মদিনাও ইসলামে অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে গণ্য হয়। আর এই মুহূর্তে ইসলামি দেশগুলির মধ্যেই আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ চলছে। সৌদি আরবে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করছে ইরান। আবার ইয়েমেনের হুথিও শক্তি বাড়িয়ে আক্রমণের পথে হাঁটছে।ঐতিহাসিক ভাবে সৌদি আরবের মূল সম্পদ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। বর্তমানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেও ঝুঁকছে তারা। সেই অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের খোঁজ পাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জবাল সইদ এলাকাতেই ইতিমধ্যে মাটির নীচে তামা উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে। মাটির নীচে খোঁজ পাওয়া ইউরেনিয়ামের গুণমান নিয়ে এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি যুবরাজ সলমন বা সৌদি সরকার। পরিমাণের নিরিখে ইউরেনিয়ামের গুণমান বোঝা সম্ভব নয় কোনও বাবেই। আকরিকের ঘনত্ব, খনিজ উপাদানের গঠন, কতটা আহরণযোগ্য, তা দিয়ে কী কী করা যেতে পারে, তার উপরই সব কিছু নির্ভর করছে। সব কিছু খতিয়ে দেখেই নিশ্চিত হওয়া যাবে সেটি বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের উপযুক্ত কি না।এর আগে, জুলাই মাসে আমেরিকার সঙ্গে সৌদির একটি চুক্তি হয়, যার আওতায় সৌদিতে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে ঠিক হয়। সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম নির্ভর কাঠামো গড়ে তোলার চুক্তিও হয়েছিল। ওই চুক্তির ফলে সৌদির ইউরেনিয়াম ভাণ্ডারের নাগাল পাওয়ার দৌড়ে আমেরিকার সংস্থাগুলি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।