মাঝআকাশে কাঁপছে বোয়িং ৭৩৭ বিমান, ভেঙে পড়ল সিলিং: অসহায় যাত্রীদের মরণ বাচন প্রয়াস
সংবাদ সংস্থা, ১৭ সেপ্টেম্বর :- মাঝ আকাশে উড়ন্ত বিমানের মধ্যে আচমকা তীব্র ঝাঁকুনি ও কম্পন, আর তার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে পড়তে শুরু করল বিমানের ভেতরের সিলিং ও ওভারহেড প্যানেল। এমনই হাড়হিম করা এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমানের যাত্রীরা। যান্ত্রিক গোলযোগ ও টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে মঙ্গলবার ইরানের সেপেহরান এয়ারলাইন্সের (Sepehran Airlines) একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানকে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করাতে বাধ্য হন পাইলট। তবে বরাতজোরে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বিমানের সমস্ত যাত্রী সুরক্ষিত রয়েছেন।
কী ঘটেছিল মাঝ আকাশে?
ঘটনাটি ঘটে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশাদ শহর থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় কেরমানশাহগামী একটি অভ্যন্তরীণ বিমানে। স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩৯ মিনিট নাগাদ বিমানটি মাশাদের হাশেমি নেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তির সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, টেক অফের ঠিক পরেই বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ারের একটি টায়ার ফেটে বা খুলে যায়। সেই টায়ারের টুকরো বিমানের একটি ইঞ্জিনে গিয়ে আঘাত করে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এর পরপরই গোটা বিমানে শুরু হয় প্রচণ্ড কম্পন। ইঞ্জিনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া ও প্রবল ঝাঁকুনির জেরে বিমানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়। কম্পনের তীব্রতায় বিমানের ভেতরের ছাদের প্যানেল (সিলিং লাইনিং) আলগা হয়ে যাত্রীদের আসনের ওপর ভেঙে ঝুলতে থাকে এবং ওভারহেড লাগেজ বিন খুলে যাত্রীদের মালামাল ছিটকে পড়ে।
যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে সেই মুহূর্তের ভয়ংকর দৃশ্য ধরা পড়েছে। বিমানটি যখন মারাত্মকভাবে দুলছিল, যাত্রীরা প্রাণভয়ে সামনের আসন শক্ত করে আঁকড়ে ধরে চিৎকার করছিলেন। বহু যাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সমস্বরে ঈশ্বরের নাম নিয়ে প্রার্থনা শুরু করেন।
মাথার ওপর থেকে ঝুলন্ত তার ও প্যানেলগুলো যে কোনো মুহূর্তে পুরোপুরি খসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাইলটের তৎপরতায় জরুরি অবতরণ পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে কালবিলম্ব না করে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
কেরমানশাহের যাত্রা বাতিল করে বিমানটিকে ঘুরিয়ে পুনরায় মাশাদ বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকল বাহিনীকে। অবশেষে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট। বিমান থামার পর দ্রুত সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি।পরবর্তীতে যাত্রীদের অন্য একটি বিমানে করে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তদন্তে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর পরীক্ষার জন্য মাশাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইরানের সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। টায়ার বিভ্রাটের কারণে ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কি না এবং পুরনো বিমানের দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এর পেছনে দায়ী কি না, তা বিশদে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে বাণিজ্যিক বিমানের যন্ত্রাংশ ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে।