বিহারে ২.৫ লক্ষ BPL পরিবারে রুফটপ সোলার, সৌরবিদ্যুতের আওতায় ২২০০ কৃষি ফিডার
গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারে জোর দিচ্ছে বিহার। আগামী অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের ২.৫ লক্ষ দারিদ্রসীমার নিচে থাকা (BPL) পরিবারকে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতার রুফটপ সোলার ব্যবস্থা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২,৫৬০টি কৃষি ফিডারের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ২,০০০ থেকে ২,২০০টি সৌরবিদ্যুতের আওতায় এসেছে।
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৯তম পরিবেশ ও শক্তি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই তথ্য জানান বিহারের বিদ্যুৎমন্ত্রী শৈলেশ কুমার। সম্মেলনে বিহার ছিল স্টেট পার্টনার। দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BCCI) আয়োজিত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় লে মেরিডিয়ানে। এবারের থিম ছিল— “পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আত্মনির্ভর ভারতের জন্য শক্তি নিরাপত্তা।”
“হর ঘর বিজলি: বিহারের গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের কাহিনি” শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শৈলেশ কুমার বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণে শক্তি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বিহারের অগ্রগতি প্রমাণ করে যে ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কী অর্জন করা সম্ভব। একটা সময় ছিল যখন রাজ্যে ন্যূনতম বিদ্যুৎ সংযোগও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আজ আমরা এমন পরিকাঠামো তৈরি করেছি, যা প্রতিটি বাড়ি এবং প্রতিটি কৃষিজমিতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম।”
বিহারে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বণ্টন পরিকাঠামো গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রিড, সাবস্টেশন এবং ট্রান্সমিশন লাইনের সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৯,৪৭৫ মেগাওয়াট।
পরিচ্ছন্ন শক্তির প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রথম পর্যায়ে ২.৫ লক্ষ BPL পরিবারকে রুফটপ সোলার দেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ২.৫ লক্ষ পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতেও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ২,৫৬০টি কৃষি ফিডারের মধ্যে ২,০০০ থেকে ২,২০০টি ইতিমধ্যেই সৌরবিদ্যুতের আওতায় এসেছে। এর ফলে কৃষকদের সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহারও বাড়বে বলে জানান মন্ত্রী।
বিহারের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানান শৈলেশ কুমার। একইসঙ্গে এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের জন্য রাজ্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যুরো অফ এনার্জি এফিশিয়েন্সি (BEE)-র ডিরেক্টর জেনারেল কৃষ্ণ চন্দ্র পাণিগ্রাহী, ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-র প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল অজয় মাথুর, NTPC-র এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর বিজয় গোয়েল এবং JSW Energy-র ভাইস প্রেসিডেন্ট অভিষেক চট্টোপাধ্যায়।
বাংলাদেশ, নরওয়ে এবং ডেনমার্কের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নেন।