কৃষ্টি সংস্কৃতির বিকাশ,আর সমন্বয় দুটোই প্রস্ফুটিত রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র গৌহাটিতে
*সানি রায়*
গৌহাটি,২২ অক্টোবর:
গুয়াহাটি মহানগরীতে আজও যেন অতীতের ধারাবাহিকতা অব্যাহত । বহু ভাষাভাষীদের বসবাস ক্ষেত্র আসামের ঐতিহ্য সংস্কৃতি বৈচিত্র্য কিছুই পিছিয়ে নেই। যা এবার ও শারদ উৎসব প্রমাণ দিয়ে আজ বিদায় হলো। কৃষ্টি সংস্কৃতির বিকাশ আর সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে মধুর মিলন বা সমন্বয় দুটোই প্রস্ফুটিত হলো মহানগরে। যদি দূর্গা পূজা বললেই যেন বাঙালীদের প্রাণের উৎসব একাংশের আজও সেই ধারণা। কিন্তু মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে পরিলক্ষিত হলো শুধু বাঙালিদেরই নয় , যা বিভিন্ন জাতি জনগোষ্ঠীর এক মিলন উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব বললে কোনো ক্ষেত্রে ভুল হবে না যার প্রমাণ রয়েছে অনেক।
উল্লেখ্য, মহানগরীর মালিগাঁও এবং পাণ্ডু পক্ষকালব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব এর আকর্ষণীয় কেন্দ্রে রয়েছে যার অবিরাম প্রচেষ্টায় এবছর ও সেই একই। নেই কোন ব্যতিক্রম তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর আরো উন্নত, ও অত্যধিক বাজেটে আকর্ষণীয় থিম নিয়ে আয়োজিত হয়েছে পাণ্ডু অঞ্চলের একাংশ পূজা। যা শহরের মানুষের মুখে মুখে চর্চা লাভ করেছে, পাণ্ডু, মালিগাঁও এবং বিষ্ণুপুর। এই তিনটি স্থানে ব্যতিক্রমী নজরকাড়া থিম নিয়ে দর্শকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, ফাটাশীল আমবারির বিষ্ণুপুর পূজা কমিটি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী লালগাণেশ,কাহিলাপারা, জিএস,রোড , লাচিত নগর , ভাঙাগড়,সহ আশপাশ এলাকার ভক্তদের শুধু নজর কেড়েছে বললে ভূল হবে, এই পূজা মণ্ডপে বাদ পড়েনি শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার দর্শকদের। সকলেই উপভোগ করতে ছুটে আসেন। সন্ধ্যা থেকে লাইন শুরু হয়ে পরদিন সকাল অবধি লোকে লোকারণ্য পরিবেশে ছিল বিষ্ণুপুর সার্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটির পূজা মণ্ডপ সহ আকর্ষণীয় থিম।
যেখানে রয়েছে নাগলোক, জলের মধ্যে বেঁচে থাকা সরীসৃপ প্রাণী সহ দেব- দেবীর আবাহন নিয়ে গড়ে উঠা একপ্রকার থিম।
তবে, পিছিয়ে নেই মালিগাঁও সহ পাণ্ডু অঞ্চলের বেশকটি আকর্ষণীয় পূজা মণ্ডপ। যেখানে অযোধ্যায় নির্মিত রামমন্দির যার আদলে গড়ে তোলা হয়েছে আজাদ হিন্দ ক্লাবের উদ্যোগে সেই পূজা মণ্ডপ। দর্শকদের ভিড় কেড়েছে অগুণিত। এছাড়াও
পাণ্ডু তে গড়ে উঠেছে রেস্ট ক্যাম্প এর দূর্গা পূজা পাঞ্জাব স্বর্ণ মন্দিরের আদলে নির্মিত পূজা মণ্ডপ ব্যতিক্রমী সাড়া ফেলেছে উক্ত অঞ্চলে।
সমগ্র গৌহাটি মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত পূজা মন্ডপ যেন বিশেষ বিশেষ থিম নিয়ে দর্শকদের মাতোয়ারা করে তুলার প্রতিযোগিতায় কেউই পিছিয়ে নেই। তবে অনেকাংশে ধর্মীয় – শাস্ত্রীয় বিধি সহ সাত্ত্বিকতা বজায় রেখে আধ্যাত্মিক ভাব নিয়ে পূজা সম্পন্ন হতে দেখা গেছে।
পূজা কমিটির তরফে দর্শকদের সহযোগিতায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছে তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ও ছিল লক্ষণীয়।