ষষ্ঠদশ বাজেট অধিবেশনে ফের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি মোকাবেলা, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সহ মহানগরীর বেজায় উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা
বুধবার থেকে শুরু হলো ষষ্ঠদশ বাজেট অধিবেশনের পরবর্তী অধ্যায়। সকাল নটা থেকেই রীতিমতো প্রশ্নোত্তর পর্বে সকলের উপস্থিতি চোখে পড়ে তবে বাদ পড়লো বন্যা কবলিত কয়েকটি সমষ্টির বিধায়ক তৎসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সহ দু চারজন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রা। যাঁরা বন্যা কবলিত অঞ্চলে মানুষের খোঁজখবর নিতে মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে। তবে আজকের অধিবেশনে লক্ষণীয় ছিল বেজায় পরিকল্পনা এবং দাবী ও প্রস্তাব। তাঁর মধ্যে উল্লেখনীয় যে, প্রথমেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে দুদিনের জন্য সদন স্থগিত রেখে আলোচনার প্রস্তাব দেয় বিরোধী দল তথা কংগ্রেস বিধায়করা। যদিও এই দাবীর প্রতুত্তরে মন্ত্রী পিযুষ হাজারিকা বলেন, সরকার আলোচনার অপেক্ষায় নয় , বাস্তবায়নের জন্যই তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে সমষ্টি জুড়ে জনগণের সাহায্যে মাঠে নেমেছে দলীয় বিধায়ক সহ মন্ত্রীরা। এদিকে, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ নিয়ে বেজায় উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বিরোধীদের প্রশ্ন পর্বে প্রতুত্তরে মন্ত্রী অতুল বরা বলেন,প্রতিটি শূন্য পদ শীঘ্রই পরিপূর্ণ করতে সরকারের পদক্ষেপ রয়েছে,এমজিএনরেগার নাম পরিবর্তন করে ভিবি জি রাম জী-র নাম দিয়ে প্রকল্পের রূপায়ণ হবে এবং আগামী দিনে গ্রামীণ উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ও উন্নয়ন সার্থক করতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ এর তরফে। এদিকে , গৌহাটি মহানগরীর সেন্ট্রাল গৌহাটি বিধায়ক বিজয় গুপ্তা শহরের কৃত্রিম বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নালা-নর্দমা সংস্কার সহ গুরুত্বপূর্ণ মরা ভরালু নদীর নিষ্কাশনের উপর এবং নদী ও পথের সংযোগ রক্ষার্থে তিনটি সেতুর দাবী ও প্রস্তাব দেন। গুপ্তা র প্রস্তাবে এবং নিষ্কাশনের প্রতুত্তরে মন্ত্রী পিযুষ হাজারিকা বলেন মহানগরীর সবকটি নালা নর্দমা সংস্কারের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে সরকার রীতিমতো কাজ করে চলছে,দিন রাত সক্রিয় ভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা খনন এবং নিষ্কাশনের ব্যবস্থা জারি রয়েছে এবং বিধায়ক গুপ্তার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ও বিবেচনা ক্রমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী হাজারিকা। তৎসঙ্গে দিনভর চলতি অধিবেশনে উপস্থিত অধ্যক্ষ রঞ্জিত দাস এর সক্রিয় পরিচালনায় বিভিন্ন সমষ্টির বিভিন্ন জলন্ত সমস্যা উঠে আসে। অন্যদিকে বিরোধীরা এদিন সদন শুরু হওয়ার পূর্বে প্লেকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ জানাতে ও দেখা যায়। তবে বিধানসভা শুরুর পর থেকেই রীতিমতো প্রশ্নোত্তর ও সমাধান সূচক আলোচনায় স্থান পায় আজকের এই ষষ্ঠদশ বাজেট অধিবেশনে। এছাড়াও , বিরোধী বিধায়ক বদর উদ্দিন আজমল বন্যা নিয়ন্ত্রণে অবৈধ খননের প্রতি এবং বালু মাফিয়াদের যত্রতত্র অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খনন প্রক্রিয়ায় লাগাম টেনে আইনতঃ পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানান। সবমিলিয়ে শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহ রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যার নিরসনে সরকারের কাছে বিরোধী পক্ষ এবং দলীয় বিধায়ক উভয়েই বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করতে দেখা যায়।