দীপাবলি ও কালীপুজোকে সামনে রেখে বাজি বিক্রি ও পোড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর নির্দেশিকা – ধলাই সম জেলা প্রশাসনের!
জনসংযোগ শিলচর, ০৬ নভেম্বর: আসন্ন দীপাবলি ও কালীপুজো ২০২৬ উপলক্ষে জনসাধারণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং উৎসবের মরশুমে পরিবেশগত মান বজায় রাখার লক্ষ্যে ধলাই সম-জেলা প্রশাসন বাজি বিক্রি, মজুত ও পোড়ানোর ক্ষেত্রে একগুচ্ছ বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।
সরকারি নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জারি করা এই নির্দেশিকায় অস্থায়ী লাইসেন্স গ্রহণ, নিরাপদ স্থানে বাজি মজুত ও বিক্রির ব্যবস্থা এবং আতশবাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধলাই সম-জেলার আওতাধীন সমস্ত আগ্রহী বাজি বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধলাইয়ের সম-জেলা আয়ুক্তের কাছে অস্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। বিস্ফোরক বিধি (Explosive Rules)-এর তফসিল-I-এ নির্দিষ্ট অনুমোদিত শ্রেণির বাজি বিক্রির ক্ষেত্রেই অনুমতি দেওয়া হবে। অনুমোদিত বাজির তালিকায় রয়েছে স্টার (সব ধরনের মাপ), রাশি, ২৮ ক্র্যাকার্স, রকেট, স্নেক কার্টন, গ্রাউন্ড চক্কর, স্কাই শো (সব ধরনের মাপ), রং মহল, কালার ম্যাচেস, টুইঙ্কলিং টর্চ, পেপার বোম, কালার কাটি, তারাবাতি, ফুলঝুরি এবং কিট ক্যাট (ছোট মাপ)। এ সংক্রান্ত জারি করা অস্থায়ী লাইসেন্সের বৈধতা ৯ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত থাকবে।
বাজি মজুত ও বিক্রির স্থানগুলির ক্ষেত্রে ধলাই সম-জেলা প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ও কাঠামোগত শর্তও নির্ধারণ করেছে। বাজি এমন শেডে রাখতে হবে, যা অগ্নিদাহ্য নয় এমন উপকরণ দিয়ে নির্মিত। দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য বাজি মজুত ও বিক্রির স্থানগুলি অবশ্যই ইট অথবা কংক্রিটের তৈরি আবদ্ধ ও সুরক্ষিত ভবনে হতে হবে। এই ধরনের প্রতিটি শেডের মধ্যে ন্যূনতম তিন মিটার এবং সম্ভাব্য যেকোনও কর্মস্থল বা নির্মাণ কাঠামো থেকে ৫০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, কোনও শেডের মুখোমুখি অন্য কোনও শেড রাখা যাবে না।
নির্দেশিকায় শেডের ভিতরে অথবা নির্ধারিত নিরাপত্তা এলাকার মধ্যে তেলচালিত প্রদীপ, গ্যাসের আলো কিংবা খোলা আগুনের শিখা ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা থাকবে, সেখানে তা দেওয়াল অথবা ছাদের সঙ্গে সুরক্ষিতভাবে স্থাপন করতে হবে এবং কোনও অবস্থাতেই নমনীয় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি বিক্রয়স্থলের ন্যূনতম মেঝের আয়তন হতে হবে ৯ বর্গমিটার এবং সেখানে পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, স্থানটি অবশ্যই ভবনের ভূমিতলে অবস্থিত হতে হবে। বহুমুখী ব্যবহারের ভবনে সিঁড়ির নিচে বাজি মজুতের কোনও ব্যবস্থা রাখা যাবে না কিংবা এমনভাবে মজুত করা যাবে না, যাতে মানুষের চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়।
প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, অন্যান্য পণ্য প্রদর্শনের জন্য ব্যবহৃত দোকানের শোকেসে কিংবা অগ্নিদাহ্য সামগ্রীর কাছাকাছি কোনওভাবেই বাজি প্রদর্শন বা মজুত করা যাবে না। শুধুমাত্র অনুমোদিত পরিমাণের বাজিই মজুত রাখা যাবে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বাজি মজুত থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
অত্যধিক শব্দ সৃষ্টিকারী বোমা, বিদেশে তৈরি বাজি এবং অবৈধ বাজি বিক্রি, মজুত কিংবা আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি গ্রিন আতশবাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাজি বিক্রেতাদের জ্বালানি তেলের পাম্পের কাছাকাছি বাজি বিক্রির দোকান না খোলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর মধ্যে ৪ কেজি/৬ কেজি ওজনের উপযুক্ত ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (DCP) অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ৪.৫ কেজি ধারণক্ষমতার CO2 অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং বাজি মজুত ও বিক্রির স্থানের কাছাকাছি সহজে ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় বালি ও জলে ভর্তি বালতি রাখতে হবে।
বাজি বিস্ফোরণের স্থান থেকে চার মিটার দূরত্বে ১২৫ dB(AI) অথবা ১৪৫ dB(C) পিক মাত্রার বেশি শব্দ উৎপন্ন করে, এমন বাজির বিক্রি ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
অনুমোদিত বাজি পোড়ানোর সময়সীমা শুধুমাত্র রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নীরব এলাকায়, বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আদালতের আশপাশে বাজি ব্যবহার ও পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী বাজি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জনসাধারণের নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উৎসবের আনন্দ যাতে সমগ্র ধলাই সম- জেলায় নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপিত হয়, তা সুনিশ্চিত করতে নির্ধারিত নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রে বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের সহযোগিতা কামনা করেছে ধলাই সম জেলা প্রশাসন।