কাছাড়ে কৃষি ও সেচ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা কৃষিমন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার, শস্য বৈচিত্র্যকরণ ও কৃষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ
জনসংযোগ, শিলচর ২৯ অক্টোবর: বরাক উপত্যকায় অয়েল পাম চাষ সম্প্রসারণ, আনারস উৎপাদক কৃষক সংস্থার উন্নয়ন, জলাভূমিতে মাখানা চাষ এবং সৌরচালিত জলসেচ পাম্প বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব: মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা
অসম সরকারের কৃষি, সেচ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা আজ কাছাড় জেলার লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কৃষি ও সেচ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শন শেষে তিনি শিলচরে কাছাড়ের জেলাশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি ও সেচ বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করেন।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাজরিকা দেওয়ান চা-বাগানে অয়েল পাম চাষের কাজ পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার সেই সিদ্ধান্তের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে চা-বাগানগুলিকে শস্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্দেশ্যে পাম তেল উৎপাদনের জন্য তাদের মোট জমির সর্বাধিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি মারকুলিন এলাকার আনারস বাগান পরিদর্শন করেন এবং আনারস চাষিদের কৃষক উৎপাদক সংস্থার (এফপিসি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁদের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মন্ত্রী উদ্যানপালন সংক্রান্ত কিট, চারা রোপণের উপকরণ, একটি বিশ্রামাগার ও একটি রেফ্রিজারেটর বিতরণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, বিদেশে আনারস রফতানির সুবিধার্থে শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণাগারের মাধ্যমে পরিবহণের ব্যবস্থা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী বছর থেকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ লক্ষ ফল ও উদ্যানপালনজাত গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এই চারাগুলির মধ্যে ড্রাগন ফল, লিচু, নারকেল ও সুপারি গাছের চারাও থাকবে।
এ ছাড়া তিনি সাপেরময়না এবং সিরিপুর পার্ট-১ এলাকায় চালু থাকা উত্তোলন সেচ প্রকল্পগুলির কার্যকারিতা ও বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন। এ ধরণের কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সেচ মডেলের সম্প্রসারণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
শিলচরে কৃষি ও সেচ বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে পৌরোহিত্য করে মন্ত্রী হাজরিকা কৃষক নিবন্ধন প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। দরিদ্র কৃষকদের জমির নামজারি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে জেলাপ্রশাসনকে ভূমি রেকর্ড বিভাগের অধিকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশও দেন তিনি।
বরাক উপত্যকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে মন্ত্রী কৃষি বিভাগকে স্থানীয় জলাভূমিতে মাখানা চাষের প্রসারে সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ, আগর গাছের চাষে উৎসাহ প্রদান এবং অয়েল পাম চাষ সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন। প্রতিটি জেলায় অন্তত ৪২টি কৃষক উৎপাদক সংস্থা (এফপিসি) গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জমির মালিক কৃষকদের সৌরচালিত জলসেচ পাম্প সরবরাহের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
সেচ পরিকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাজরিকা লিফট
সেচ প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পগুলির বরাদ্দের পরিমাণ অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি করার বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, সেচ প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কদের অবশ্যই অবহিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার এই পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কৌশিক রাই এবং বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়, কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ ও কিশোর নাথ উপস্থিত ছিলেন।