বিলাসীপাড়া বিধানসভাধীন চাপর অঞ্চলের বৈধ মদের দোকান বন্ধের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? প্রশ্ন সচেতন নাগরিকের!
আদালত নির্দেশের পক্ষেই সরকার, স্পষ্ট করল বিভাগীয় মন্ত্রী সহ সদন
বৈধ মদের দোকান স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি নিয়ে বিধায়ক জিবেশ রায় বিধানসভায় সরব হলেও অবৈধ মদ-জুয়া নিয়ে নীরব কেন? প্রশ্ন জনতার। যেখানে সরকারের রাজ কোষাগারে শুল্ক আসছে,জমা হচ্ছে বিক্রয় কর, সরকারের নির্ভরযোগ্য উৎস বন্ধের পক্ষে ধুবড়ি জেলার বিলাসীপাড়া বিধানসভা সমষ্টির বিধায়ক জিবেশ রায়। তিনি গত ষষ্ঠদশ বাজেট অধিবেশনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন বিধানসভার সদনে,যে চাপর অঞ্চলের বৈধ মদের দোকান বন্ধের দাবি এবং সমাজের সুরক্ষা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে এ দাবী সত্যিকারের সনাতনীদের জন্য প্রশংসনীয় পদক্ষেপ! তবে, প্রশ্ন উঠেছে তা যদি একটি সম্প্রদায়কেন্দ্রিক সুরক্ষা প্রদানের রক্ষাকবচ হয় তাহলে সেটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং তাঁর প্রতুত্তর সন্নিকটে বললেন একাংশ বুদ্ধিজীবী মহল। তাছাড়া তিনি যদি বৈধ মদের দোকান বন্ধের দাবিতে সরব হলেন তবে চাপর অঞ্চল থেকে শুরু করে বিলাসীপাড়া অবধি অবৈধ মদের রমরমা ব্যবসা এবং তীর-জুয়ার রমরমা কালো ব্যবসা নিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় কেন?? তিনি কি নিজেই সামলাচ্ছেন এসব অবৈধ বাণিজ্য? প্রশ্ন বৈধ মদ ব্যবসায়ী সহ সচেতন মহলের! বিধায়ক কি অবৈধ বাণিজ্য তথা মদের রমরমা ব্যবসা থেকে ব্যক্তিগত মুনাফা আদায় করতে গিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত ঘটানোর লক্ষ্যে নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন ঘটানাই তাঁর উদ্দেশ্য বললেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য , বিলাসীপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জিবেশ রায় উদ্ধৃত করে বলেন চাপরের বিতর্কিত মদের দোকানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বিধায়ক বলেন, জননেতা শরৎচন্দ্র সিংহ-এর আদর্শ এবং চাপরের জনমতকে উপেক্ষা করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিলাসবহুল মদের দোকান ‘হৃষি রেস্তোরাঁ’ খোলার তীব্র বিরোধিতা করছেন স্থানীয়রা। তবে এবার প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় কি বহি: পঞ্চায়েত এলাকায় বাস করা জনগণ? নাকি উক্ত ৫নং ওয়ার্ডে বাস করা জনতা? কারা স্থানীয়? উঠেছে প্রশ্ন!বিধায়কের কাছে কি কোন তথ্য রয়েছে কারা আন্দোলনে সামিল ছিলেন? এবং কজন উক্ত ৫নং ওয়ার্ডের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক, সেই সরকারের বৈধ মদের দোকান বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন? বিধায়ক কি দিতে পারবেন তার সঠিক তথ্য? উঠেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া! এখানেই স্পষ্ট যে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলের অগপ বিধায়ক এবার মুসলমান সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় ব্যস্ত! অন্যদিকে,এসব অঞ্চলে অবৈধ নেশা-জুয়ার কবলে পড়ে, কর্মহীন হয়ে যুব সমাজ ব্যতিব্যস্ত হলেও নজর নেই তাঁর! উঠেছে এমন অভিযোগ,
উল্লেখ্য,বিধায়ক জিবেশ রায়ের এমন প্রশ্নের জবাবে আবগারি মন্ত্রী অতুল বরা বিধানসভাকে জানান যে, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের বিচারাধীন রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার জনগণের পক্ষে আছে এবং থাকবে। মদের দোকানটি বৈধ অনুজ্ঞা দেওয়ার পূর্বে কিছু নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় ১৫ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ বোর্ড লাগানো হয়েছিল যদি কোন ধরণের আপত্তি – অভিযোগ থাকে তাহলে সরকার এই নির্দিষ্ট জায়গায় মদের দোকান বসানোর অনুমতি দেবে না, তবে তখন থেকে বৈধ অনুজ্ঞা বের হওয়ার প্রায় ৬ মাস অবধি কোন্ ধরণের অভিযোগ – আসে নাই বিভাগের হাতে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সেই ‘হৃষি রেস্তোরাঁ ‘ কে বৈধ অনুজ্ঞা দেওয়া হয়েছে আবগারি বিভাগের পক্ষ থেকে। এবং আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট তাঁরা সরকারের সব নিয়ম মেনে লাইসেন্স পেয়েছে এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে সরকারের রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার এবং ‘হৃষি রেস্তোরাঁ’ কর্তৃপক্ষকে। তবে বিভাগীয় মন্ত্রী স্থানীয় বিধায়ক রায়ের প্রশ্নে উত্তর দিতে গিয়ে বলেন আবগারি আইনের নিয়ম অনুযায়ী একটি শপথ নামা দাখিল করবে আদালতকে, তবে শেষ সমাধান হবে রাজ্যের উচ্চ ন্যায়ালয়ের আদেশ। আদালতের বিচারাধীন মামলায় সরকারের হস্তক্ষেপ নেই বিধানসভা সদনে স্পষ্ট করলেন বিভাগীয় মন্ত্রী অতুল বরা সহ অধ্যক্ষ। এবার দেখার বিষয় আদালত কার পক্ষে?
এবার প্রশ্ন উঠেছে বিধায়ক যদি জনগণের স্বার্থে এই লড়াই চালিয়ে যান তাহলে তাঁর সমষ্টির অবৈধ বাণিজ্য মদ-জুয়া , দুর্নীতি বন্ধ করে জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেখানোর আহ্বান সচেতন মহল সহ বৈধ মদের ব্যবসায়ীদের।
এবার চাপরের বিতর্কিত “হৃষি রেস্তোরাঁ” আদালতের রায়ের উপর এবং সরকারের বৈধ বিধি নিয়মের উপর আস্থা রেখে পুনরায় দোকান খোলার আশা রাখলেন । তৎসঙ্গে তাঁরা জানান অবৈধ মদের ব্যবসা থেকে সরকার রাজস্ব পাবে না বৈধ মদের দোকান থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করে এবং তাঁর উপর নির্ভরশীল রাজ্যের রাজ কোষাগার। তাই সরকার পক্ষের জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে সরকারি রাজকোষ বর্ধিত করা, তাঁর বিপরীতে একটা শ্রেণীর মানুষের স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন ঘটানোই তার উদ্দেশ্য নয়, যা আগামীদিনের অশুভ সংকেত, তার প্রমাণ সময়ই নির্ধারণ করবে বলে মনে করেন অনেকেই।