এ.আই-আধারিত ওয়াগনের দরজা ও সিল পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পণ্য পরিবহনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রজেক্ট ‘দৃষ্টি’ বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগে আইআইটি গুয়াহাটি এবং উত্তর পূর্ব রেল
জনসংযোগ, মালিগাঁও, ২৭ সেপ্টেম্বর :– উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে, আইআইটি গুয়াহাটির সহযোগিতায় প্রজেক্ট ‘দৃষ্টি’ চালু করা হয়েছে। এটি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-আধারিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান, যার লক্ষ্য হলো উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আওতাধীন মালবাহী ওয়াগনগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে মালিগাঁওস্থিত উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য কার্যালয়ে আযোজিত এক অনুষ্ঠানে এই ব্যবস্থাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মালবাহী ওয়াগনের দরজা, তালা ও সিলের ওপর নজরদারি ব্যবস্থা মজবুত করার লক্ষ্যে প্রজেক্ট দৃষ্টি গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সিস্টেমটি হাই-স্পিড ক্যামেরা, ইন্টেলিজেন্ট লাইটিং, সুরক্ষিত নেটওয়ার্কিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একত্রিত করে, যাতে ওয়াগন লক এবং সিলগুলির দক্ষ নজরদারি করা যায় এবং ট্রানজিটের সময় সম্ভাব্য অনিয়ম বা চুরি সময়মত সনাক্ত করা যায়। এই অনুষ্ঠানে আইআইটি গুয়াহাটির প্রতিনিধি এবং রেলওয়ের বরিষ্ঠ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাকে সম্বোধন করে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং উদ্যোগ ও কৃষিকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওেয়র জন্য পণ্য পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত প্রতিকূলতার জন্য সড়কপথে পরিবহন কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে রেলওয়েই আঞ্চলিক অর্থনীতির জীবন-রেখা হয়ে ওঠে। তিনি পণ্যবাহী ওয়াগনের দরজাগুলি সঠিকভাবে বন্ধ এবং সুরক্ষিতভাবে সিল করা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর আরও জোর দেন, যাতে পণ্য সুরক্ষিত থাকে। আগে, এই প্রক্রিয়াটি হাতে-কলমে সম্পন্ন করা হতো এবং তা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হতে পারত, বিশেষ করে রাতের বেলা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার সময়। প্রজেক্ট দৃষ্টি প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুতভাবে, অধিক নির্ভরযোগ্য ও দক্ষভাবে পরিদর্শন করে এই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করে। যখন ট্রেনগুলি নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট অতিক্রম করে, তখন এই সিস্টেমটি মালবাহী ওয়াগনগুলির পরীক্ষা করা, ওয়াগনের নম্বর শনাক্ত করা এবং সেগুলির দরজা, তালা ও সিল-এর অবস্থা যাচাই করে। এটি সিল ও তালাগুলি অক্ষত আছে কি না, অথবা কোনো সম্ভাব্য অনিয়মের ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন কি না-তা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থাটি পরিদর্শনের ফলাফল ডিজিটালভাবে রেকর্ডিং করার সুবিধাও প্রদান করবে, যা রেলওয়ে কর্মচারীদের সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে। প্রযুক্তি-নির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা কনসাইনমেন্ট সুরক্ষিত রাখতে, বিলম্ব কমাতে এবং আরপিএফ ও বাণিজ্যিক কর্মীসহ রেলওয়ের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের কাজ সহজতর করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য অনিয়ম দ্রুত শনাক্তকরণের সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে, এই ব্যবস্থাটি কেবল কায়িক বা ম্যানুয়াল পরিদর্শনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পণ্যবাহী পরিবহনের ওপর নজরদারি শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওেয় এবং আইআইটি গুয়াহাটির মধ্যে এই যৌথ উদ্যোগটি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রেলওয়ে পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে একত্রিত করেছে। এই উদ্যোগটি রেলওয়ের কাজগুলির উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহনের সুরক্ষা মজবুত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি-চালিত সমাধানের সম্ভাবনাকেও তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিযে, জেনারেল ম্যানেজার আইআইটি গুয়াহাটির টিম এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের আধিকারিক, সুপারভাইজার ও টেকনিশিয়ানদের এই ধারণাকে একটি প্রযুক্তিগত সমাধানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রজেক্ট দৃষ্টি আরও সাফল্য অর্জন করবে এবং এই উদ্যোগটি আগামী বছরগুলিতে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওযে ও আইআইটি গুয়াহাটির মধ্যে এ ধরনের আরও যৌথ প্রকল্পের পথ প্রশস্ত করবে।
