মায়ের বিদায় ও সিঁদুরখেলা পারস্পরিক সৌহার্দ্য: বিদায়ের বেদনায়,মিলনের আনন্দ!
রঞ্জিত ধর ,গুয়াহাটি ২৩ অক্টোবর: দূর্গাপূজার পাঁচ দিনের আনন্দ-উৎসবের শেষ অধ্যায় বিজয়া দশমী। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর মায়ের আরাধনায় মুখরিত চারপাশে এই দিনটি নিয়ে আসে একদিকে বিষাদের সুর, অন্যদিকে আগামী বছরের অপেক্ষা ও নতুন আশার বার্তা। হিমালয় পুত্রী মা দুর্গার কৈলাশে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে ভক্তদের চোখে জল আসে, অথচ হৃদয়ে জেগে থাকে আবার ফিরে পাওয়ার অঙ্গীকার— “আসছে বছর আবার হবে।“
বিজয়া দশমীর অন্যতম আকর্ষণ হলো মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুরখেলা। সনাতনী কৃষ্টি সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে বিবাহিত মহিলারা প্রথমে মা দুর্গার কপালে ও পায়ে সিঁদুর পরিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন। এরপর একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন, মিষ্টিমুখ করান এবং পরস্পরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। লাল সিঁদুরে রাঙা হয়ে ওঠে মণ্ডপের পরিবেশ, ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা।সিঁদুরখেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি নারীর পারস্পরিক বন্ধন, সৌভাগ্য কামনা এবং বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অনন্য বহিঃপ্রকাশ। হাসি, আনন্দ, আবেগ আর চোখের জলে মিশে যায় বিদায়ের মুহূর্ত। মায়ের বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা, কিন্তু থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে এক অপূর্ব অনুভূতি।
বিজয়া দশমী আমাদের শেখায়— বিদায় মানেই শেষ নয়, বিদায়ের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে নতুন করে ফিরে আসার প্রত্যাশা। তাই মাকে বিদায় জানিয়ে অপরাজিতার ঢাল দিয়ে লাল-হলদে ফিতা বানিয়ে ও শান্তির জল ছিটিয়ে আমরা বলি, আগামী বছর আবার এসো মা, সকলের জীবনে সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে। আর এই ধারায় যেন বিদায়ের বেদনায় আনন্দ আর প্রত্যাশায় পথ চেয়ে থাকার নামই যেন বিজয়া দশমী। সবমিলিয়ে গৌহাটি মহানগরীর পুলিশ প্রশাসন সহ বিভিন্ন বিভাগীয়-দের সক্রিয় ভূমিকায় যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়েছে ছদিন ব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। এতে অনেকেই প্রশাসনের ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৎসঙ্গে বৃহত্তর ওদালবাক্রা সার্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটির পক্ষ থেকেও পুলিশ প্রশাসন সহ স্থানীয় সহযোগীদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।