পশ্চিম বাংলার হেলথ স্কিমের নিয়মে বড়োসড়ো পরিবর্তন: সরকারি কর্মীদের
সংবাদ সংস্থা, ১৫ সেপ্টেম্বর :- ছেলে-মেয়েদের জন্য জন্য বিরাট উপহার সরকারের, কী সুবিধা? কবে থেকে নতুন নিয়ম?
পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প বা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এর নিয়মে এক তাৎপর্যপূর্ণ বদল আনল রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের মেডিক্যাল সেল। বয়স বৃদ্ধি কিংবা উপার্জনের কারণে যে সমস্ত ছেলে-মেয়েদের নাম এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে যেত, এবার তাঁদের জন্যও স্বাস্থ্যসাথী বা ডব্লিউবিএইচএস তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বহাল রাখার পথ খুলে দেওয়া হলো। অর্থ দপ্তরের ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের নির্দেশিকা (অর্ডার নং: 78-F(MED)WB) অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই নতুন ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। তবে এই ক্ষেত্রে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ সরকার দেবে না, রোগীকে সম্পূর্ণ নিজের খরচে চিকিৎসা করাতে হবে।
কেন এই নিয়মে বদল?
বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মীর ছেলের বয়স ২৫ বছর পার হলে কিংবা সে নিজে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠলে প্রকল্পের আওতা থেকে সরাসরি বাদ পড়ে। অন্যদিকে, মেয়ের ক্ষেত্রে বিয়ে হয়ে গেলে কিংবা উপার্জন শুরু হলেই স্কিম থেকে নাম কেটে দেওয়া হয়। এর ফলে এতদিন পর্যন্ত সরকারি কর্মীর যে সন্তানরা ডব্লিউবিএইচএস-এর সুযোগ পাচ্ছিলেন, যোগ্যতা হারানোর পর বেসরকারি হাসপাতালের চড়া রেট এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার মতো চরম সমস্যার মুখোমুখি হতেন। এই সমস্যা কাটাতেই সরকার ‘নন-পিকিউনিয়ারি বেনিফিসিয়ারি’ (Non-Pecuniary Beneficiary) নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ক্যাটাগরি তৈরি করেছে।
‘নন-পিকিউনিয়ারি বেনিফিসিয়ারি’ ব্যবস্থার সুবিধা :-
এই নতুন ক্যাটাগরির আওতায় নথিভুক্ত সন্তানরা প্রকল্প তালিকাভুক্ত (Empanelled) বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে সাধারণ বাজারদরের বদলে ডব্লিউবিএইচএস অনুমোদিত নির্ধারিত কম খরচে (WBHS-approved rate) চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। তবে সরকারের তরফ থেকে কোনো ক্যাশলেস সুবিধা বা পরবর্তীতে খরচ ফেরতের (Reimbursement) সুযোগ দেওয়া হবে না। চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রোগী বা তাঁর পরিবারকেই মেটাতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক একটি ব্যবস্থা, অর্থাৎ কোনো কর্মী বা পেনশনভোগী নিজে আবেদন জানালেই কেবল এই সুযোগ মিলবে।
আবেদন ও কার্যকর করার পদ্ধতি :-
চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন জানানো বাধ্যতামূলক :-
১. ছেলের বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক এক মাস আগে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা পেনশনারকে এই অপশন বেছে নিতে হবে।
২. মেয়ের বিবাহ কিংবা উপার্জন শুরুর তথ্য অফিসে জানানোর সময়েই এই বিকল্পের জন্য আবেদন করতে হবে।
আবেদন গৃহীত হলে দফতর থেকে আগাম একটি সংশোধিত এনরোলমেন্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, যাতে চিকিৎসার মাঝে কোনও ছেদ না পড়ে। এই সার্টিফিকেট এবং পোর্টালে স্পষ্টভাবে ‘Non-Pecuniary Beneficiary’ স্ট্যাটাস উল্লেখ থাকবে।
একটি সহজ উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে – যদি কোনও পেনশনারের ছেলের বয়স ১৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে ২৫ বছর পূর্ণ হয়, তবে ওই কর্মীকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যেই নির্দিষ্ট বিকল্প বেছে নিতে হবে। ফলে ১৬ নভেম্বর থেকেই ছেলে নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু আবেদন করতে দেরি হলে বা ভুলে গেলে এই সুবিধা মিলবে না।
কর্মচারীদের বাড়তি সতর্কতা :-
মনে রাখা জরুরি, এটি কোনও আর্থিক অনুদান নয়; বরং বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই পেয়ে সরকার-অনুমোদিত সস্তা রেটে চিকিৎসা করানোর একটি সুযোগ। সন্তানের যোগ্যতা হারানোর তথ্য গোপন রাখলে বা সময়মতো না জানালে সার্ভিস রুল অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।