৯২৫০০০ কেজির দৈত্য বিমানে এসেছিল Russian Rolls-Royce! রাজধানীর রাস্তায় পুতিনের ৭ টনের অভেদ্য ‘চলমান দুর্গ’!
সংবাদ সংস্থা, ১৫ সেপ্টেম্বর :- ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিক্স সম্মেলন হয়ে গেল। বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্র প্রধানরাই ছিলেন ভারতের রাজধানীতে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম ভারত সফরে এলেন ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন আসার অনেক আগেই নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে ঢুকে পড়েছিল ৩ রুশ মিলিটারি এয়ারক্রাফ্ট। পুতিনের টিম এসেছিল সেই তিন বিমানে চেপে। সেই বিমানের তালিকায় ছিল ৯২৫০০০ কেজির আইএল-৭৬ সামরিক পরিবহণ বিমান। আর সেই দানবযানের পেটে করেই দিল্লিতে এসেছিল পুতিনের বিশেষ গাড়ি। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতোই পুতিনেরও নিজস্ব গাড়ি উড়ে এসেছিল তাঁর দেশ থেকে। পুতিন ভারতেও তাঁর সরকারি গাড়ি অরাস সেনাত লিমুজিনে চড়ে যাতায়াত করেছেন। এই গাড়ি ‘রাশিয়ান রোলস-রয়েস’ নামেই পরিচিত। রাজধানীর রাস্তায় পুতিনের ৭ টনের অভেদ্য ‘চলমান দুর্গ’ নিয়েই এখন বিস্তর চর্চা চলছে। নিরাপত্তার বলয়ে মোড়া অত্যন্ত সুরক্ষিত এই গাড়িটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামির গোপনীয় কোর্টেজ প্রকল্পের আওতায় তৈরি হয়েছে; মূলত ক্রেমলিনে আগে ব্যবহৃত মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস ৬০০ গার্ড পুলম্যান গাড়ির বিকল্প হিসেবেই এই বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালে পুতিন চতুর্থবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই গাড়িটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে এসেছিল। পুতিনের জন্য তৈরি গাড়িটি অত্যন্ত গোপনীয় ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী বিশেষ ভাবেই সাজানো হয়েছে। এই প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হল বিশদে। দেখুন কেন এই গাড়িকে বলে ‘ফোর্টেস অন হুইলস’!
রইল এই গাড়ির যাবতীয় বৈশিষ্ট্য :-
এই লিমুজিন চলমান বাংকারের মতো করে ডিজাইন করা এবং এই গাড়িটিকে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এতে VR8/VR10-স্তরের ব্যালিস্টিক সুরক্ষা রয়েছে। এর শক্তিশালী বডি শেল উচ্চ-ক্যালিবারের গুলি, আর্মার-পিয়ার্সিং অ্যামিউনিশন এবং স্নাইপারের গুলি প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
ল্যান্ডমাইন এবং রাস্তার পাশে পেতে রাখা আইইডি থেকে রক্ষার জন্য এতে রয়েছে ভারী বর্মযুক্ত, বিস্ফোরণ-প্রতিরোধী আন্ডারবডি প্লেটিং। গাড়ির জানলার কাচগুলি প্রায় ২.৩ ইঞ্চি পুরু মাল্টি-লেয়ার বুলেট-প্রতিরোধী গ্লাস দিয়ে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী করতে।
এই লিমুজিনে একটি সম্পূর্ণ সিল কেবিন রয়েছে, যেখানে যাত্রীদের জৈব-রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এক স্বাধীন অক্সিজেন এবং এয়ার-ফিল্টারেশন সিস্টেম রয়েছে।
ভারী অভ্যন্তরীণ রিমের উপর নির্মিত সলিড রাবারের রান-ফ্ল্যাট টায়ারে এই গাড়ি চলে, বুলেট বা স্পাইকের আঘাতে সমস্ত টায়ার ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও গাড়ি সম্পূর্ণ সচল থাকবে। জ্বালানি ট্যাংকটি এক বিশেষ পদার্থ দিয়ে মজবুত করা হয়েছে, যা ছিদ্র হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং লিকেজ কমিয়ে আনে।
ইঞ্জিন বে এবং আন্ডারক্যারেজ জুড়ে স্বয়ংক্রিয় অগ্নি শনাক্তকরণ ও নির্বাপণ ব্যবস্থা দ্বারা সজ্জিত। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার পাশাপাশি এতে ভিন্টেজ সোভিয়েত ZIS-110 এবং আধুনিক রোলস-রয়েসের নান্দনিকতা ও আরামদায়ক বৈশিষ্ট্যের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।
গাড়িটির পিছনের অংশটি এক এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল হাব বা সুরক্ষিত যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে! এতে থাকা বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট গাড়িতে বসেও দেশের সামরিক ও কৌশলগত বাহিনীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন।
গাড়ির কেবিনে রয়েছে উন্নত মানের চামড়ার আস্তরণ, নিখুঁত কারুকাজ করা প্রাকৃতিক কাঠের ট্রিম, অত্যন্ত আরামদায়ক আসন এবং অত্যাধুনিক ইনফোটেইনমেন্ট ব্যবস্থা। বিদেশ সফরের সময় পুতিন আয়োজক দেশের দেওয়া কোনও স্থানীয় গাড়ি ব্যবহার করেন না। বিশাল ইলুশিন ইল-৭৬ বিমানে করে আগেভাগেই চলে আসে এই লিমুজিনের বহর
সেখানে পুতিনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ও উচ্চ-প্রযুক্তি সম্পন্ন সংস্করণটির মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার মতো প্রায় ৯ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিবেগ তুলতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিক ভাবে ১৬০ কিমি/ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬.৭ মিটার, প্রস্থ ২ মিটার এবং উচ্চতা ১.৭ মিটার; এর হুইলবেস বা চাকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩.৩ মিটার।