এফসিআরএ বিল জেপিসিতে, বিরোধীদের আপত্তিতে উত্তপ্ত লোকসভা
বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও বিল প্রত্যাহারের দাবির মধ্যেই ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬-কে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) কাছে পাঠানো হল। বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংগঠন এবং সংখ্যালঘুদের উপর বিলটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আজ লোকসভায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদবকে বিলের কোন ধারা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে, তা দেখানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “অখিলেশজি, বিলের এমন একটি ধারা দেখান, যা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে। দেশে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে নিয়ম থাকা উচিত।”
জবাবে অখিলেশ বলেন, “রিজিজু জিকে স্পষ্ট করে বলা উচিত, তাঁরা আজ পর্যন্ত এমন কোন বিল এনেছেন, যা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়।”
কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানালে রিজিজু বলেন, “বিল নিয়ে বেণুগোপাল বা অন্য কোনও সাংসদের আপত্তি থাকলে তাঁরা জেপিসিতে তা উত্থাপন করতে পারেন।” তাঁদের মতামত জানানোর জন্য “যথেষ্ট সময়” দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ডিএমকে নেতা টি আর বালু-ও বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
দুই কক্ষের অনুমোদনের পর বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করেন। রাজ্যসভা ১২ অগাস্ট, বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার এক দিন আগে, একই প্রস্তাব অনুমোদন করে।
জেপিসিতে লোকসভার ২১ জন এবং রাজ্যসভার ১০ জন সদস্য থাকবেন। লোকসভার সদস্যদের মনোনীত করবেন স্পিকার এবং রাজ্যসভার সদস্যদের মনোনীত করবেন চেয়ারম্যান। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিনের মধ্যে কমিটিকে লোকসভায় রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
লোকসভায় ২৫ মার্চ পেশ হওয়া বিলটি ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ২০১০ সংশোধনের প্রস্তাব করছে। ভারতে ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি এই আইন নিয়ন্ত্রণ করে।
বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হল একটি ‘ডেজিগনেটেড অথরিটি’ গঠন। কোনও সংগঠনের এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন কার্যকর না থাকলে এই কর্তৃপক্ষ বিদেশি অনুদান এবং ওই অর্থে তৈরি সম্পত্তির তদারকি, পরিচালনা এবং প্রয়োজনে নিষ্পত্তি করতে পারবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এফসিআরএ সার্টিফিকেট নবীকরণ না হলে, নবীকরণের আবেদন না করা হলে অথবা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তার বৈধতা শেষ হবে। সে ক্ষেত্রে বিদেশি অনুদান এবং ওই অর্থে সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে তৈরি সম্পত্তি প্রথমে কর্তৃপক্ষের কাছে অস্থায়ী ভাবে ন্যস্ত হবে। রেজিস্ট্রেশন পুনর্বহাল বা নবীকরণ না হলে তা স্থায়ী ভাবে ন্যস্ত হতে পারে। ওই সম্পত্তি সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর বা বিক্রি করা যাবে এবং প্রাপ্ত অর্থ ভারতের সঞ্চিত তহবিলে জমা হবে।
বিলে কোনও সংগঠনের অপরাধের জন্য দায়ী ‘কী ফাংশনারি’-দের সংজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি কোনও নিষ্ক্রিয় সংগঠনের শেষ পর্যায়ের ওই পদাধিকারীদের সরকারকে অবহিত করার প্রস্তাব রয়েছে। এফসিআরএ লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে এক বছর করার পাশাপাশি তদন্ত শুরুর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।
এ দিকে, বিল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ৯ আগস্ট খ্রিস্টান সংগঠনগুলি সামাজিক মাধ্যমে সমন্বিত আবেদন জানিয়ে সরকারকে এটি জেপিসিতে পাঠানো অথবা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। ৬ জুলাই থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খ্রীস্টান সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের উদ্বেগ নিয়ে অন্তত চারটি বৈঠক করেছেন। সর্বশেষ ৬ আগস্টের বৈঠকে তিনি ক্যাথলিক, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং অর্থডক্স সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বুধবার ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়া (সিবিসিআই) এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ চার্চেস ইন ইন্ডিয়া (এনসিসিআই) বিলটি জেপিসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে স্বাগত জানিয়েছে।