সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত দিগন্তের হাতেই উদ্বোধন “জ্ঞান মন্দির” থিম নিয়ে বৃহত্তর ওদালবাক্রা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির দূর্গাপূজা
রঞ্জিত ধর, গুয়াহাটি ১৭ অক্টোবর: পঞ্চমীতে মণ্ডপে মায়ের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে দুর্গা উৎসবের আমেজ বিরাজ করে, গতকাল দুর্গাষষ্ঠীতে নব পত্রিকা গঠনের পর দুর্গা পূজার সূচনা হয়। মহানগরীর বৃহত্তর ওদালবাক্রা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটি ৫৬ তম দুর্গা উৎসবের আয়োজন করেছে অসমের যে সকল লেখক-কবি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন তাদেরকে নিয়ে সল্প পরিসরে “জ্ঞান মন্দির – সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে অসম” এই থিম নিয়ে প্রস্তুত বৃহত্তর ওদালবাক্রা সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির দুর্গা পূজার মণ্ডপ”। তাই দুর্গাষষ্ঠীতে অসমের গৌরব সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী দিগন্ত বিশ্ব শর্মার হাত ধরেই আকর্ষণীয় মণ্ডপের দ্বার উন্মোচন করা হয় গতকাল সন্ধ্যায়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘ ৫০ মিনিটের বক্তব্যে বলেন “জ্যোতিপ্ৰসাদ ‘শিল্পীর পৃথিবী’ সুন্দরের সাধক — রূপান্তরের সংস্কৃতি – জীবনের সংস্কৃতি – নরোত্তম্ — নারায়ণ হওয়া/ নলিনীকান্ত গুপ্ত- শক্তি পূজা/ অরবিন্দ = তন্ত্র যোগপন্থা /মানবতাবাদ / ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা — পাঁচ হাজার বছর আগের ভরতের নাট্যশাস্ত্ৰ/ সাহিত্য তত্ত্ব ইউরোপীয় সমুদ্রের ওপারের কারখানায় যার জন্ম/ ইউরোপের বিভিন্ন সাহিত্য তত্ত্বের যুগ/ ভূপেন হাজরিকা/ আব্দুল কালাম / আমরা কী ইউরোপের চেতনার পেছনে ছুটবে না ভারতীয় চেতনাকে অনুসরণ করবে/ “ethics religion and philosophy with help of heart faculty — reason and imagination– science criticism and philosophy– poetics and art”
রূপান্তরে সহায়তা করেছে/ পৃথিবীর প্রতিজন জনতাই শিল্পী — জ্যোতিপ্ৰসাদ বলেছেন/ পৃথিবীর একটা স্বপ্ন আছে/ভর্তৃহরি নীতিশতকম্ এক হাজার বছর আগে– সাহিত্য সংগীত কাব্যের প্রতি আকর্ষণ নেই সে জন্তুর তুল্য।শক্তি – জ্ঞান কর্ম শক্তি ভক্তি না থাকলে মানুষ হওয়া যায় না। জগন্নাথের রথ – অরবিন্দ/ এটা একটা সিম্বল- অন্তরাত্মার রথ- তিনটি ঘর এক বিশ্বব্যাপী, দুই হৃদয়ব্যাপী/ শিক্ষক = ফেসিলিটেটর — আসল শিক্ষক জগন্নাথ/ স্বতন্ত্রতা, শক্তি, একতা, জ্ঞান আদর্শ সমাজ গড়ার মূলে/ দুর্গার আরাধনা শক্তির আরাধনা/শক্তি দয়ালু কিন্তু সে প্রবঞ্চিত হয়। তাই জ্ঞানের সাধনা করতে হয়/শক্তি প্রকৃতি মায়া — ভক্তি driving force/ সমর্পণ/ তন্ত্র = সপ্তদ্বার ষটচক্র- মূলাধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধি, আজ্ঞা, সহস্রপদ্ম চক্র = ভক্তির মাধ্যমে রামকৃষ্ণ/ তন্ত্রের ভুল মূলাধার খোলার চেষ্টায়/অরবিন্দ খুললেন অনাহত আর সহস্রপদ্ম/ individual soul/নিজেকে উন্নীত এবার স্বস্তিবাচনে শেষ।”
এই পূজা মণ্ডপে প্রায় দেড়হাজার গ্রন্থ এই “জ্ঞান মন্দির ” বা গ্রন্থাগার আদলে তৈরি মণ্ডপে রাখা হয়েছে। মণ্ডপের বহি ও অভ্যন্তরীণ উভয় ভাগে সাজানোর জন্য ব্যবহার করা হয় বই , দোয়াত ও কলম আদি ব্যবহার করে এই মণ্ডপ সুসজ্জিত করে তোলে সঞ্জয় গাঙ্গুলি ও সহকর্মীরা। ষষ্ঠীর সন্ধ্যা পায়েস প্রসাদ বিতরণ করা হয় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে। তাছাড়া পূজার প্রতিদিন মধ্যাহ্ন ও রাতে প্রসাদ বিতরণের আয়োজনে করেছেন পূজা মন্দির কমিটি। প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে ৯ট পযন্ত পূজার অর্ঘ্য সামগ্রী গ্রহণ ও বিকাল ৩টা থেকে ৫টা অবধি প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান। তাছাড়া প্রতিদিন সাত্ত্বিক ভাবে পূজা অর্চনা ও সকাল ১১ টা থেকে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এর ব্যবস্থা করেছেন আয়োজক কমিটি। প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী জুবিন গার্গ এর শোকে গত বছর কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম করেনিপরিচালনা কমিটি, তবে এবার আগন্তুক লক্ষীপুজোর পর বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়। বৃহত্তর ওদালবাক্রা অঞ্চলের যেসকল ছাত্র ছাত্রীরা গত দুবছর অর্থাৎ ২০২৫ এবং ২০২৬ এ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৮০% শতাংশের অধিক নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। তাই মার্কশিট এর ফটোকপি আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে কমিটির কার্যালয়ে এ জমা দিতে হবে বলে জানান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক যীশু ভট্টাচার্য। সবমিলিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে রয়েছে মঙ্গলময়ী সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটি।