নির্বাচনের পর ইজরায়েলের নীতিতে বড় বদলের সম্ভাবনা কম: প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রদূত
অক্টোবরের সংসদীয় নির্বাচনের পরে ইজরায়েলের দখল করা প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড, বসতি সম্প্রসারণ এবং গাজা নিয়ে সে দেশের নীতিতে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বুধবার এমনই মন্তব্য করলেন ভারতে নিযুক্ত প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লা মহম্মদ আবু শাওয়েশ।
নয়াদিল্লির কূটনৈতিক এলাকার প্যালেস্টাইনি দূতাবাসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবু শাওয়েশ বলেন, ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির খেসারত দিতে হচ্ছে প্যালেস্টাইনিদের। নির্বাচনের পরে পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তিনি দেখছেন না।
তার কথায়, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত নয় নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। তার পরে প্রশ্ন তোলা যে, এর মধ্যে প্যালেস্টাইনি সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে কী ঘটল।”
ইজরায়েলের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, প্যালেস্টাইনিদের উচ্ছেদ এবং ওই ভূখণ্ডকে কার্যত ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়ায় কোনও লাগাম টানতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, ইজরায়েলের রাজনৈতিক বিরোধীদের নিয়েও আশাবাদী হওয়ার বিশেষ কারণ নেই। বরং প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি।
এই প্রসঙ্গে বসতি সম্প্রসারণ এবং দখল করা এলাকায় ইজরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্যালেস্টাইনি দূতাবাসের দাবি, জুলাইয়ে দখল করা পশ্চিম তীরে ৩৪টি বসতি গড়ার জন্য প্রায় ৪৩১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে ইজরায়েল। বসতিগুলির সঙ্গে যোগাযোগকারী রাস্তা-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরির জন্য আরও ৩৫৬ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।
আবু শাওয়েশ বলেন, নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের চেয়ে পশ্চিম তীরে বাস্তবে কী ঘটছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের দক্ষিণপন্থী নেতাদের বক্তব্য উল্লেখ করে তার অভিযোগ, বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেখানে বসবাসকারী ইজরায়েলিদের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডও ক্রমশ বাড়ছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে দূতাবাস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ১২৭টি প্যালেস্টাইনি সম্প্রদায় সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি সম্প্রদায় সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬,৩৯০-এর বেশি প্যালেস্টাইনি এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আবু শাওয়েশ বলেন, “প্যালেস্টাইনি ভূমি কোনও নির্বাচনী পুরস্কার নয়। প্যালেস্টাইনি মানুষের জীবনও নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হতে পারে না।